শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ছবি বানানোর আগে যে সতর্কতা জরুরি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৮ PM ৫৩ বার পঠিত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ছবি বানানোর আগে যে সতর্কতা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

নস্টালজিয়া এখন আর শুধু পুরোনো অ্যালবামের পাতায় আটকে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্দায় ফিরে আসছে আশির দশক, পুরোনো দিনের পোশাক, সাদাকালো সিনেমার আবহ, পুরোনো গাড়ি আর হারিয়ে যাওয়া সময়ের নানা দৃশ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিজের একটি ছবিকে কয়েক সেকেন্ডেই বদলে ফেলা যাচ্ছে সেই সময়ের চেহারায়। কেউ হয়ে উঠছেন আশির দশকের নায়ক, কেউ দাঁড়াচ্ছেন পুরোনো দিনের গাড়ির পাশে, কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন নিজের কল্পিত শৈশবে। ছবি তৈরি হচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে, আর হাজার হাজার মানুষ মেতে উঠছেন সেই স্মৃতির খেলায়।

এমন প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। কিছুদিন আগেও অ্যানিমেশনধর্মী ছবিতে নিজের চেহারা দেখার উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। এখন তার জায়গা নিয়েছে পুরোনো দিনের নানান সাজ ও পরিবেশ। প্রযুক্তির সৌজন্যে কয়েক মুহূর্তেই নিজের ছবিকে নতুন রূপ দেওয়ার এই আনন্দে আপত্তির কিছু নেই। প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। যে ছবিটি দিয়ে নতুন ছবি তৈরি করছেন, সেটি আসলে কোথায় যাচ্ছে?

ফোনের গ্যালারিতে থাকা একটি ছবি আপনার কাছে হয়তো আর দশটি ছবির মতোই সাধারণ। কিন্তু সেটি যখন কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপে আপলোড করছেন, তখন ছবিটি আর কেবল ছবি থাকছে না। হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল তথ্য।

একটি ছবির সঙ্গে অনেক সময় এমন কিছু তথ্য যুক্ত থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। কখন ছবিটি তোলা হয়েছে, কোন যন্ত্রে তোলা হয়েছে, কোথায় তোলা হয়েছে, এসব তথ্য ছবির সঙ্গে সংরক্ষিত থাকতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় ছবিতে থাকা মানুষের মুখ। মুখ একজন মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়ের অংশ। ফলে ছবি দেখে একজন মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সেটি ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো সেবায় আপনি যখন একটি ছবি দেন, তখন সেই ব্যবহারের সঙ্গে আরও কিছু তথ্য যুক্ত হতে পারে। আপনি কী লিখছেন, কী ছবি বা ফাইল দিচ্ছেন, কোন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করছেন, ইন্টারনেট সংযোগের পরিচিতি কী, এমনকি ব্যবহারের সময়কার বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্যও ব্যবস্থাটির কাছে জমা হতে পারে। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি উত্তর বা ফাইলও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে।

অর্থাৎ, আশির দশকের পোশাকে নিজের একটি ছবি বানাতে গিয়ে আপনি হয়তো ভাবছেন, একটি ছবি দিলেন। প্রযুক্তির দৃষ্টিতে সেখানে জমা পড়ছে তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার তৈরি ছবিটি হয়তো কয়েক দিন পরেই হারিয়ে যাবে। নতুন নতুন পোস্টের ভিড়ে কেউ আর সেটি মনে রাখবে না। কিন্তু ছবিটি তৈরির জন্য যে মূল ছবিটি আপনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেবায় পাঠিয়েছিলেন, সেটি কত দিন থাকবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ নীতির ওপর।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবার তথ্য সংরক্ষণের সময় নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারীর কথোপকথন মুছে না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। মুছে ফেলার পরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তথ্য ৩০ দিন পর্যন্ত সার্ভারে থাকতে পারে। ব্যবহারকারীর পরিচয় থেকে আলাদা করা তথ্য আরও বেশি সময় রাখা সম্ভব।

অন্যদিকে, গুগলের জেমিনি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কথোপকথনের তথ্য সাধারণভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। ক্লডে মুছে দেওয়া কথোপকথন সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে মূল ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবহারকারী যদি নিজের কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন, পরিচয় বিচ্ছিন্ন করা অনুলিপি পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে।

এসব তথ্য শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আশির দশকের সাজে আপনার একটি ছবি তৈরি করলেই সেটি ফাঁস হয়ে যাবে বা কেউ অপব্যবহার করবে, এমন কথা বলা হচ্ছে না। বিষয়টি মূলত নিয়ন্ত্রণের। আপনার মুখের আরেকটি অনুলিপি তখন একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে রয়েছে। সেটি কত দিন থাকবে, কীভাবে ব্যবহৃত হবে এবং কখন মুছে যাবে, তার বড় অংশ নির্ভর করবে সেই প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর।

আরও বড় উদ্বেগ তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে। আপনি আজ একটি ছবি দিলেন। কাল জানতে চাইলেন কোনো একটি বিষয়। পরদিন অন্য একটি ছবি বা ফাইল পাঠালেন। আলাদা আলাদা করে দেখলে এগুলো সাধারণ তথ্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এমন তথ্য জমতে থাকলে একজন ব্যবহারকারীর অভ্যাস, আগ্রহ, পেশা কিংবা জীবনযাপনের ধরন সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে পারে। নাম না থাকলেও তথ্যের এই যোগসূত্র একজন মানুষকে শনাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু ছবি বানানো বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রযুক্তি নয়। ই-মেইল, কেনাকাটা, ব্যক্তিগত ছবি, নথি এবং নানা ডিজিটাল সেবার সঙ্গে এর যোগাযোগ বাড়ছে। ফলে এসব ব্যবস্থার আশপাশে জমা হওয়া তথ্যের পরিমাণও বাড়ছে। তথ্য যত বেশি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নটিও তত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবণতা থেকে দূরে থাকতে হবে? বিষয়টি এত সরল নয়। বরং নিজের কোন তথ্য কোথায় দিচ্ছেন, সেটি বোঝাই বেশি জরুরি।

করণীয়

প্রথমত, এমন কোনো প্রবণতায় অংশ নেওয়ার আগে সতর্ক হন, যেখানে পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংকসংক্রান্ত নথি বা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত ছবি আপলোড করতে বলা হয়। বিনোদনের জন্য এসব তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অন্য মানুষের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে শিশুদের ছবি তাদের অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেবায় আপলোড না করাই ভালো।

যেসব সেবায় আপনার দেওয়া তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করার সুযোগ রয়েছে, সেটি যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ রাখুন। সংবেদনশীল কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করলে সাময়িক বা ব্যক্তিগত কথোপকথনের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন।

পুরোনো কথোপকথন ও অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজন শেষ হলে সেগুলো মুছে ফেলুন। একই সঙ্গে কোনো অ্যাপে ছবি বা ফাইল আপলোড করার আগে একবার ভেবে দেখুন, ছবিটি সত্যিই সেখানে দেওয়া দরকার কি না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। এর সুবিধা থেকে দূরে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হওয়ার পাশাপাশি নিজের তথ্যের মূল্যও বুঝতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি হয়তো কয়েক দিনের আনন্দ। কিন্তু সেই ছবি থেকে তৈরি হওয়া তথ্যের জীবন অনেক দীর্ঘ হতে পারে। তাই ট্রেন্ডে যোগ দেওয়ার আগে একবার নিজের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করুন, ছবিটি কি শুধু ছবি, নাকি এর সঙ্গে আপনার আরও কিছু তথ্যও চলে যাচ্ছে?

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!