জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানে, নৃত্য-ছন্দে বর্ণিল পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ‘নজরুল নৃত্য উৎসব ২০২৬’-এর পর্দা নামলো।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ নৃত্য উৎসব আজ সন্ধ্যায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগমের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
দ্বিতীয় পর্বে একের পর এ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নজরুলের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিকে মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। নজরুলের গান ও কবিতায় যে বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও সৌন্দর্যের বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটেছে, নৃত্যশিল্পীরা তাদের শৈল্পিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সেই চেতনাকেই দর্শকের সামনে তুলে ধরেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুলের বহুমাত্রিক সৃষ্টিজগতের সঙ্গে নৃত্যের সৃজনশীল সংলাপ নির্মিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমবেত নৃত্য “রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে” পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। এরপর সমবেত নৃত্য “পদ্মার ঢেউরে” পরিবেশন করেন নৃত্যশৈলী, পরিচালনায় ছিলেন নীলাঞ্জনা জুঁই এবং “শ্যাম সুন্দর গীরিধারী” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন ওড়িশী এন্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার-চট্টগ্রাম, পরিচালনায় প্রমা অবন্তী। নৃত্যশিল্পী সাজু আহমেদ এর পরিচালনায় “আমি যার নুপুরের ছন্দ” গানের সাথে কত্থক নৃত্য সম্প্রাদায় এবং ত্রিপনা’র পরিচালনায়, “হলুদ গাদার ফুল” গানের সাথে রিপরিপ শিল্পীগোষ্ঠী-রাঙ্গামাটি নৃত্য পরিবেশন করেন। কামরুল হাসান ফেরদৌস এর পরিচালনায় নৃত্যদল বহর “আমরা শক্তি, আমরা বল” এবং জুয়েইরিয়াহ মৌলি ও এস এম হাসান ইশতিয়াক এর পরিচালনায় কাথ্যাকিয়া-দ্যা সেন্টার অফ আর্টস “কে দুরন্ত বাজায়” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন।
বগুড়ার নৃত্যদল “আমরা কজন শিল্পীগোষ্ঠী”র মাহবুব হাসান সোহাগ এর পরিচালনায় পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য “দূর দ্বীপ বাসিনী” এবং সুলতানা হায়দার এর পরিচালনায় সুকন্যা নৃত্যাঙ্গন পরিবেশন করে সমবেত নৃত্য “বাগিচায় বুলবুলি”। এরপর সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যগ্রাম-ময়মনসিংহ, পরিচালনায় মানস তালুকদার এবং ছান্দসিক, পরিচালনায় সাইফুল ইসলাম সাকী। মোফাসসল আলিফ এর পরিচালনায় অ্যালিফিয়া ডান্স এটিলিয়ার এবং আনিসুর রহমান হীরো এর পরিচালনায় সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যদল আকৃতি, পরিচালনায় কচি রহমান এবং রংপুরের নৃত্যদল, পরিচালনায় আবুল কালাম আজাদ। নিলুফার আহমেদ পাপড়ি’র পরিচালনায় নান্দনিক নৃত্য সংগঠন এবং প্রিয়াংকা সাহা’র পরিচালনায় নৃত্যদল আরাধনা নৃত্য পরিবেশন করে।
“তোরা সব জয়ধ্বনি কর” গানের সাথে নাইমুর শাহাদাৎ এর নৃত্যকল্প এবং “জাগো নারী জাগো” গানের সাথে আনন্দিতা খান এর পরিচালনায় নৃত্যদল অংশী সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। দীপা সরকার-এর পরিচালনায় কল্যাণী নৃত্যাঙ্গন এবং দীপা খন্দকার এর পরিচালনায় দিব্য সাংস্কৃতিক সংগঠন নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর নৃত্য পরিবেশন করে ঝংকার ললিতকলা একাডেমি, পরিচালনায় ফাতেমা কাশেম; কালারস অফ হিল, পরিচালনায় শুভার্থী চাকমা; পুষ্পাঞ্জলি, পরিচালনায় কস্তুরী মুখার্জি এবং শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, পরিচালনায় শহিদুল ইসলাম বাবু।
মারিয়া ফারিহ উপমা’র পরিচালনায় উপমায়া এবং হেনা হোসেনের পরিচালনায় আভিনায়া নৃত্য পরিবেশন করেন। সবশেষে “মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম” গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে ভঙ্গিমা ডান্স থিয়েটার, পরিচালনায় ছিলেন সৈয়দা সায়লা আহেমেদ লিমা।
