শেখ মেহেদী হাসান:
শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গেলেই যেন পৃথিবীটা বদলে যায়। চার দেয়ালের মাঝে বন্দী জীবন তখন ছটফট করে মুক্ত প্রকৃতির জন্য। শহরের বাঁধাধরা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয় প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি। এখন ভাদ্র মাস, আকাশের বিশাল ক্যানভাসে সাদা মেঘের ভেলা উড়ে যায় দিগ্বিদিক। দৃষ্টি যতদূর যায়, শুধুই চোখ জুড়ানো সবুজ আর সবুজের সমারোহ। সেই সবুজের বুক চিরে বিলে ঝিলে মাথা তুলে আছে শত শত লাল সাদা বাহারি পদ্ম ফুল।
পানির ওপর ভাসছে গোল গোল পদ্মপাতা, আর বাতাসে দুলছে পদ্ম ফুলের ডাঁটা। আহা, কী যে তার অপরূপ সৌন্দর্য! প্রকৃতির এই রূপের মাঝে হারিয়ে যাওয়া নিছক কোনো বিলাসিতা নয়, বরং তা মানবমনের জন্য এক মোহনীয় অধ্যায়। তখন শহরের সব ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির এক অপার শান্তির কাছে ফিরে যেতে মন চায়।
কখনোবা মনে পড়ে যায় কৈশোরের সেই বৃষ্টিস্নাত দিনগুলোর কথা। যখন কোমরে মালকোঁচা মেরে বিলে নেমে কোনো এক তপ্ত দুপুরে একগুচ্ছ পদ্মফুল হাতে তুলে নেওয়ার স্মৃতিগুলো মোহনীয় হয়ে ওঠে। পদ্মগুচ্ছের সুঘ্রাণ আর শালুক তোলার সেই আনন্দ আজও যেন গায়ে লেগে আছে। সব বন্ধু মিলে হইচই করে পদ্মের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে দেওয়ার সেই অদ্ভুত অনুভূতি আজও প্রকৃতির টানে মনকে ব্যাকুল করে তোলে।
গ্রামের এই নীরব সৌন্দর্যের প্রশান্তি সবসময়ই অমলিন। তাই শহরের কোলাহল ভুলে নিরোগ শরীর, সতেজ মন আর যান্ত্রিকতার একঘেয়েমি দূর করার সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম গ্রাম।
ডিএ/
