শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

এআইয়ের আশির দশকের ট্রেন্ডে ফিরছে পুরোনো দিনের নস্টালজিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২১ PM ৫২ বার পঠিত
এআইয়ের আশির দশকের ট্রেন্ডে ফিরছে পুরোনো দিনের নস্টালজিয়া

অভিনেত্রী স্পর্শিয়ার ফেসবুক থেকে

একটি সাধারণ ছবি। পোশাক আধুনিক, পেছনে আধুনিক শহর কিংবা ঘরের দৃশ্য। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সেই ছবিটিকেই যদি মনে হয় কয়েক দশক আগের কোনো পারিবারিক অ্যালবাম থেকে বের করে আনা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এমনই এক ছবি তৈরির প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে অনেকে নিজেদের বর্তমান ছবিকে ১৯৮০-এর দশকের আদলে রূপান্তর করে শেয়ার করছেন।

এটি শুধু ছবিতে পুরোনো রঙের একটি ছাপ দেওয়ার বিষয় নয়। এআইয়ের সাহায্যে একটি আধুনিক ছবির পোশাক, চুলের ধরন, অলংকার, পটভূমি, আলো এবং ছবির সামগ্রিক আবহ বদলে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন সেটি সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা। কারও ছবি হয়ে উঠছে পুরোনো স্টুডিও পোর্ট্রেট, কারওটি পারিবারিক অ্যালবামের ছবি, আবার কেউ চাইছেন সে সময়ের বিয়ের ছবি কিংবা সাময়িকীর প্রচ্ছদের মতো একটি প্রতিকৃতি।

এই প্রবণতার আকর্ষণের বড় জায়গা নস্টালজিয়া। যাঁরা ১৯৮০-এর দশক দেখেছেন, তাঁরা ফিরে পাচ্ছেন পরিচিত সেই সময়ের পোশাক, চুলের ধরন, ছবির রঙ ও পরিবেশ। আর তরুণদের জন্য এটি হয়ে উঠছে এমন এক সময়কে কল্পনা করার সুযোগ, যে সময়ে তাঁদের বর্তমান জীবন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ফলে প্রযুক্তি এখানে শুধু ছবি বদলাচ্ছে না, বরং একজন মানুষকে নিজের একটি ‘অন্য সময়ের সংস্করণ’ কল্পনা করার সুযোগ দিচ্ছে।

এ ধরনের ছবি তৈরির প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ। প্রথমে এমন একটি পরিষ্কার ছবি বেছে নিতে হয়, যেখানে মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এরপর ছবিটি এমন এআই সেবায় দিতে হয়, যেখানে ছবি সম্পাদনা বা নতুন ছবি তৈরির সুবিধা রয়েছে। নির্দেশনায় জানাতে হয়, ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের আদলে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে পোশাক, চুলের ধরন, পটভূমি, আলো এবং ছবির ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে বলা যায়। প্রথমবারের ফলাফল মনমতো না হলে পরবর্তী নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন চাওয়া যায়, তবে মুখ ও পরিচিত বৈশিষ্ট্য যেন স্বাভাবিক থাকে, সেটিও উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ‘পুরোনো ছবি বানিয়ে দিন’ বললে অবশ্য সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া নাও যেতে পারে। বরং ছবিটি কোন সময়ের, কী ধরনের পরিবেশে তোলা এবং কেমন দেখতে হবে, তা স্পষ্টভাবে জানালে ফলাফল আরও নির্দিষ্ট হয়। যেমন, ১৯৮০-এর দশকের স্টুডিও পোর্ট্রেট চাইলে সে সময়ের পোশাক, চুলের ধরন, উষ্ণ স্টুডিও আলো, নরম ফোকাস এবং অ্যানালগ ফিল্মের দানাদার আবহের কথা বলা যায়। পুরোনো পারিবারিক অ্যালবামের মতো ছবি চাইলে আলো ও রঙকে অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক রেখে ছবিতে সামান্য পুরোনো ফিল্মের বৈশিষ্ট্য যোগ করার নির্দেশ দেওয়া যায়।

ভারতীয় সংস্কৃতির আদলে এই প্রবণতাকে আরও নির্দিষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। ১৯৮০-এর দশকের শাড়ি, গয়না, চুলের ধরন কিংবা পুরুষদের সে সময়ের পোশাক ও চুলের স্টাইল যুক্ত করে ছবি তৈরি করা যায়। একইভাবে পুরোনো বলিউড স্টুডিও পোর্ট্রেট, বিয়ের ছবি, সাময়িকীর ফটোশুট বা ১৯৮০-এর দশকের রাস্তার দৃশ্যের মতো আলাদা আবহও তৈরি করা সম্ভব।

তবে এই প্রবণতার মূল সৌন্দর্য শুধু প্রযুক্তিগত কৌশলে নয়, বরং গল্প বলার ক্ষমতায়। একটি ছবি হয়তো বাস্তবে কখনোই ১৯৮০-এর দশকে তোলা হয়নি, কিন্তু এআই সেটিকে এমন এক দৃশ্যের রূপ দিতে পারে, যা দেখে মনে হবে পুরোনো কোনো অ্যালবামের পাতা খুলে গেছে। আধুনিক ছবিকে অতীতের নান্দনিকতার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার এই সুযোগই সম্ভবত ট্রেন্ডটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ছবি তৈরি হওয়ার পর সেটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও শেয়ার করা হচ্ছে। ‘Add Yours’ ধরনের সুবিধার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী অন্যদেরও একই ধরনের ছবি তৈরি করে শেয়ার করার আহ্বান জানাতে পারেন। ফলে ব্যক্তিগত ছবি তৈরির অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অংশগ্রহণমূলক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

এআই-নির্ভর ছবির এই প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে, পুরোনো দিনের নান্দনিকতা এখন আর শুধু পুরোনো অ্যালবাম কিংবা ফিল্ম ক্যামেরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ নিজের বর্তমান ছবিকে অতীতের কল্পিত কোনো মুহূর্তে বসিয়ে দিতে পারছে। তাই ১৯৮০-এর দশকের এই ছবি-ট্রেন্ডকে নিছক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিনোদন হিসেবে দেখলেও, এর ভেতরে রয়েছে স্মৃতি, নস্টালজিয়া এবং নিজের পরিচিতিকে ভিন্ন সময়ের আলোয় দেখার এক নতুন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!