শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

শিশুর জন্য কোন পোষা প্রাণী

জারা হাসান (তুলি)

জারা হাসান (তুলি)

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬ PM ১৮ বার পঠিত
শিশুর জন্য কোন পোষা প্রাণী

ছবি: সংগৃহীত

একটি মাছের অ্যাকুয়ারিয়াম দিয়ে যে শেখার শুরু, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো একটি বিড়াল বা কুকুরের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। পোষা প্রাণী শুধু শিশুর খেলাধুলার সঙ্গী নয়, সঠিক বয়সে সঠিক প্রাণীর যত্ন নেওয়ার সুযোগ তাকে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতাও শেখাতে পারে। তবে প্রাণী পোষার সিদ্ধান্তের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যত্নের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। তাই শিশুর বয়স, সক্ষমতা এবং পরিবারের সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করেই পোষা প্রাণী বেছে নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের একটি গবেষণার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্ক শিশুদের মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্বেগ কমানো এবং সামাজিক সমর্থনের অনুভূতি বাড়ানোর মতো কিছু উপকারও এতে দেখা গেছে। একই বছরের আরেক গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিজের পোষা প্রাণীর যত্নে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তাদের সহমর্মিতা, সামাজিক আচরণ ও দায়িত্ববোধ পোষা প্রাণী না থাকা শিশুদের তুলনায় বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুধু বাড়িতে একটি প্রাণী থাকলেই যথেষ্ট নয়, শিশুকে বয়স অনুযায়ী তার যত্নের সঙ্গে যুক্ত করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য মাছ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এই বয়সে শিশুরা ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে তাদের বাইরেও এমন জীব আছে, যাদের প্রয়োজন আছে এবং যাদের যত্ন নিতে হয়। মাছকে খাবার দেওয়া কিংবা অ্যাকুয়ারিয়ামের দিকে নজর রাখা তাদের জন্য সহজ একটি দৈনন্দিন অভ্যাস তৈরি করতে পারে। এতে অন্য একটি জীব নিজের ওপর নির্ভর করছে, এই ধারণার সঙ্গে শিশুর পরিচয় ঘটে। একই সঙ্গে পানির মধ্যে মাছের চলাচল, রং ও আকৃতি দেখার মাধ্যমে তাদের কৌতূহল এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও বাড়তে পারে। তবে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে প্রাণীর যত্নে অভিভাবকের তত্ত্বাবধান থাকা প্রয়োজন।

ছয় থেকে আট বছর বয়সে গিনিপিগ বা হ্যামস্টারের মতো ছোট প্রাণী শিশুকে আরও সরাসরি যত্ন নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। এ ধরনের প্রাণী তুলনামূলক ছোট হলেও প্রতিদিনের খাবার, পরিচর্যা ও খাঁচা পরিষ্কারের মতো নিয়মিত দায়িত্ব থাকে। ফলে শিশুর কাজের সঙ্গে ফলাফলের সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খাঁচা পরিষ্কার না করলে যে সমস্যা তৈরি হয়, সেটি বইয়ের উদাহরণের চেয়ে বাস্তবে অনেক বেশি সহজে বোঝা যায়। প্রাণীটির আচরণ ও প্রয়োজন বুঝে তার সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা শিশুকে নিজের ইচ্ছার বাইরেও অন্য একটি জীবের প্রয়োজন বিবেচনা করতে শেখায়।

নয় থেকে ১১ বছর বয়সে পাখি কিংবা সহজে পরিচর্যা করা যায় এমন কিছু সরীসৃপ শিশুর শেখার পরিধি আরও বাড়াতে পারে। যেমন বাজরিগার বা ককাটেলের মতো পাখি, কিংবা লেপার্ড গেকোর মতো সরীসৃপ পালনের আগে শিশুকে ওই প্রাণীর বাসস্থান, খাবার ও আচরণ সম্পর্কে জানতে হয়। ফলে পোষা প্রাণীর যত্ন শুধু দৈনন্দিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর সঙ্গে যুক্ত হয় তথ্য খোঁজা, পড়াশোনা ও নিজের মতো করে শেখার অভ্যাস। পাখির সঙ্গে কথা বলা ও যোগাযোগের চেষ্টাও শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা চর্চার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সে একটি বিড়াল শিশুর জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। বিড়াল সাধারণত নিজের পছন্দ ও সীমারেখা স্পষ্ট করে। কখন কাছে আসবে, কখন দূরে থাকবে, সেটিও অনেকটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। ফলে এই বয়সের শিশুরা অন্যের ইচ্ছা, ব্যক্তিগত সীমা ও মেজাজকে সম্মান করার বিষয়টি বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিড়ালের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক হতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগের সঙ্গে শিশুদের মনোযোগ বৃদ্ধি, চাপের কিছু জৈবিক সূচক কমে আসা এবং শেখার কাজে বেশি সম্পৃক্ততার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোরদের জন্য কুকুরের যত্ন আরও বড় দায়িত্বের অভিজ্ঞতা দিতে পারে। নিয়মিত খাবার দেওয়া, হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রাণীটির মানসিক প্রয়োজনের দিকে নজর রাখা, সবকিছুর জন্য ধারাবাহিকতা দরকার। ফলে কিশোর বুঝতে শেখে, কোনো দায়িত্ব নিজের ইচ্ছামতো মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া যায় না। প্রতিদিনের ব্যস্ততা বা অনীহার মধ্যেও একটি প্রাণীর প্রয়োজন মেটাতে হয়। এই অভ্যাস ভবিষ্যৎ জীবনের দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতেও কাজে লাগতে পারে। কুকুরকে নিয়ে বাইরে হাঁটাহাঁটি করার ফলে শারীরিক সক্রিয়তা ও বাইরে সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি হয়।

তবে বয়স অনুযায়ী পোষা প্রাণী বেছে নেওয়ার এই ধারণাকে কোনো কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি শিশুর পরিপক্বতা এক রকম নয়, আর প্রতিটি প্রাণীরও যত্নের প্রয়োজন আলাদা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুকে একা দায়িত্ব দিয়ে না রেখে পরিবারের বড়দের তত্ত্বাবধান ও সহায়তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণীটির নিরাপত্তা এবং শিশুর নিরাপত্তা দুটিই বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রতিবেদনে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্মিথও বলেছেন, পোষা প্রাণীর যত্ন ধারাবাহিকতা ও প্রতিশ্রুতি দাবি করে এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অংশগ্রহণ জরুরি।

একটি শিশু যখন প্রতিদিন মাছকে খাবার দেয়, গেকোর প্রয়োজনীয় পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেয় কিংবা স্কুলে যাওয়ার আগে কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে যায়, তখন সে আসলে বইয়ের বাইরে বাস্তব জীবন থেকেই শিখছে। দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, ধৈর্য, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের মতো দক্ষতা কোনো নির্দিষ্ট বয়সে একদিনে তৈরি হয় না। ছোট ছোট দায়িত্বের মধ্য দিয়েই এগুলো গড়ে ওঠে। আর পোষা প্রাণী সেই শেখার সুযোগটিকে অনেক বেশি জীবন্ত ও মানবিক করে তুলতে পারে। তাই শিশুর জন্য পোষা প্রাণী বেছে নেওয়ার প্রশ্নটি শুধু ‘কোন প্রাণী সবচেয়ে ভালো’ নয়, বরং ‘কোন বয়সে কোন দায়িত্বটি শিশুকে শেখানো সম্ভব’ সেটিও ভাবার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!