শিরোনাম:
Network News BD
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

পরীক্ষার ফলাফল মেধা মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড নয়

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩২ AM ২৪ বার পঠিত
পরীক্ষার ফলাফল মেধা মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড নয়

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি সম্পাদিত

মোঃ মাজহারুল ইসলাম:

প্রতিবছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। অসুস্থ সামাজিক প্রতিযোগিতা আর সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতামুখী মানসিকতা শিক্ষার্থীদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পারিবারিক মানসিকতা বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মেধার একমাত্র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ নম্বর বা গ্রেড। ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রতিবেশীদের আড্ডা পর্যন্ত সবখানেই চলে ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক জীবনের একটি পরিমাপক হলেও এটি মেধা মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড নয়। কাঙ্ক্ষিত গ্রেড না পাওয়া শিক্ষার্থীটির মনের ভেতর তখন কী চলে সেই খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন কেউ বোধ করে না।

যে শিক্ষার্থী সমাজ নির্ধারিত এই ভালো ফলাফল পায় না তার ওপর নেমে আসে এক অদৃশ্য সামাজিক নির্যাতন। পরিবার ও চারপাশের মানুষের অবহেলায় তাকে যেন অপরাধী বানিয়ে ফেলা হয়। এই তীব্র গ্লানি ও অপমানের বোঝা সইতে না পেরে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে আসলেই কি একটি পরীক্ষার ফল একটি প্রাণের চেয়ে মূল্যবান। এইচএসসি পরীক্ষা প্রকৃতপক্ষে উচ্চশিক্ষার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। পরীক্ষায় সাধারণ ফল করেও অধ্যবসায় ও চেষ্টার জোরে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন আমাদের চারপাশেই এমন মানুষের অভাব নেই। একটি পরীক্ষার ফলাফলের চেয়ে একটি জীবন যে অনেক বেশি মূল্যবান এই বোধ আমাদের সমাজে গড়ে তুলতে হবে।

পরিবারকেই প্রথম সন্তানের মানসিকতা বুঝতে হবে। পরীক্ষায় তথাকথিত ভালো ফলাফল না করেও যে জীবনে সফল হওয়া যায় দেশ ও মানুষের সেবা করা যায় এই আত্মবিশ্বাস অভিভাবকদেরকেই শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিতে হবে। সর্বোচ্চ নম্বরের পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন ও নৈতিক গঠনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। মুখস্থবিদ্যার জোরে সর্বোচ্চ ফল ছোঁয়ার চেয়ে একজন সংবেদনশীল ও সৎ মানুষ হয়ে ওঠাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের পাশাপাশি সমাজকেও তার আচরণ বদলাতে হবে বিশেষত যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে বা প্রত্যাশিত নম্বর পায়নি তাদের প্রতি। তাদের ধিক্কার না দিয়ে বুকে টেনে নিয়ে সাহস জোগাতে হবে কারণ একটি ব্যর্থতা কোনো শিক্ষার্থীর সামগ্রিক সম্ভাবনার প্রতিফলন নয়। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে কীভাবে আগামীতে নতুন উদ্যমে শুরু করা যায় সেই পথ দেখানো সমাজের সব মানুষের কর্তব্য।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষা বোর্ডের উচিত মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও চাপমুক্ত ও যুগোপযোগী করা যাতে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ তথ্যের পুনরাবৃত্তির চেয়ে নিজের মৌলিক মেধা ও দক্ষতার প্রকাশ ঘটাতে পারে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক না কেন প্রতিটি সন্তান যেন তার পরিবারে ও সমাজে নিরাপদ আশ্রয় পায় তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। একটি জাতির প্রকৃত সাফল্যের পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশে গ্রেড পয়েন্টের সংখ্যায় নয়।

শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ।

বিষয়বস্তু:

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!