গত ১৭ বছরে পরিকল্পিত দলীয়করণের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং হারানো একাডেমিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাগবাড়িকে মুক্তিযুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এটি এমন একজন রাষ্ট্রনায়কের জন্মস্থান যিনি ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জেড ফোর্সের নেতৃত্বে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার নির্মোহ সত্য নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর তিনি জোর দেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথাও জানান তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর কেবল পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয় বলে জানিয়ে দেন ড. আমানুল্লাহ। দেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় এই প্ল্যাটফর্মে পাঠ্যক্রম আধুনিক করা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, একাডেমিক তদারকি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। তিনি মনে করেন, মানসম্মত শিক্ষার মূল ভিত্তি হলেন দক্ষ ও সৎ শিক্ষকরা। তাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, গবেষণায় যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে অভ্যস্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল বারীর সভাপতিত্বে এই সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভা শেষে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাও দেন উপাচার্য।
