শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

গোদাগাড়ীতে টপ সয়েল নিধনে বাধা দেওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি

নিহাল খান

নিহাল খান

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ৫:২৬ PM ১৬ বার পঠিত
গোদাগাড়ীতে টপ সয়েল নিধনে বাধা দেওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষি জমির উর্বর ‘টপ সয়েল’ (উপরের অংশের মাটি) নিধনে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ মুরসালিন ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম হোতা কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা একটি পুরোনো অডিও ক্লিপ বিকৃত (মেকানিজম) করে তা চাঁদা দাবির নাটক সাজিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলাম তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার এলাকায় একটি উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার পাঁয়তারা করছিল কামরুজ্জামান ও তার চক্র। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং মুরসালিন ইসলামকে অবহিত করে। মুরসালিন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) ফোন করে জানান। তথ্যের ভিত্তিতে ইউএনও ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন এবং আইন অমান্য করায় মাটিখেকো কামরুজ্জামানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলামের অভিযোগ, জরিমানা হওয়ার পর থেকেই কামরুজ্জামান তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিশোধ নিতে সে একটি পুরোনো অডিও রেকর্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। মুরসালিন জানান, কিছুদিন আগে তার একটি উঁচু জমির মাটি কাটার বিষয়ে কামরুজ্জামানের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। সেখানে তিনি এক গাড়ি মাটির জন্য ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। সম্প্রতি ইউএনওর অভিযানে জরিমানা খাওয়ার পর কামরুজ্জামান ওই আগের অডিওটি কাটছাঁট ও মেকানিজম করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তিনি চাঁদা দাবি করেছেন বলে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদ লিপি দেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

মুরসালিন আরও জানান, কামরুজ্জামান মূলত এই অঞ্চলের টপ সয়েল নিধন চক্রের অন্যতম মূল হোতা। গোদাগাড়ী উপজেলায় যতগুলো টপ সয়েল কাটার ঘটনা ঘটে, তার প্রায় ৯০ শতাংশেরই নেতৃত্ব দেয় এই কামরুজ্জামান। মাটি কাটার পাশাপাশি সে তার শ্বশুরের সাথে মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা কামরুজ্জামানের হঠাৎ এই আকাশছোঁয়া উত্থান কোথা থেকে হলো—তা নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বর্তমানে তার ৬-৭টি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধামকি পাওয়ায় মুরসালিন ইসলাম এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি এই চক্রের কবল থেকে বাঁচতে এবং প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কথা বললে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। কেউ অভিযোগ করেনি।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!