শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

মা-বাবার সারপ্রাইজ

মোঃ রাসেল সরকার

মোঃ রাসেল সরকার

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ২:০৭ PM ১০ বার পঠিত
মা-বাবার সারপ্রাইজ

ছবি: এআই নির্মিত

মা-বাবার সারপ্রাইজ
মোঃ রাসেল সরকার

 

খুব সকালে ঘুম ভেঙেছে নাফির। কিন্তু সে এখনো বিছানায় বসে আছে। বসে বসে ফেসবুকে বন্ধুদের পাঠানো মেসেজগুলো পড়ল আর অবাক হলো। কারণ সে তার যেসব বন্ধুকে ইনভাইট করেছিল, তাদের কেউ-ই তাকে কোনো মেসেজ পাঠায়নি। নাফি ভাবল, তার বাবা হয়তো ফোন করে বন্ধুদের আসতে নিষেধ করে দিয়েছেন। বন্ধুরাও হয়তো রাগ করে তাই কোনো মেসেজ পাঠাচ্ছে না।

এমন সময় হঠাৎ নাফির মা এসে দরজায় কড়া নেড়ে ডাকতে শুরু করলেন, ‘নাফি, দরজা খোলো। অনেক বেলা হয়েছে। এভাবে পড়ে পড়ে ঘুমালে হবে?’

নাফি মায়ের কথায় কোনো কান দিল না। সে রাগে তখন যেন ফুঁসছে। রাগে হাতের কাছে থাকা ঘরের টুকটাক জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলতে শুরু করল সে। নাফির মা বুঝতে পারলেন, কাল রাতে বাবার বলা কথাগুলোর কারণেই নাফির এত রাগ হয়েছে।

কাল রাতে নাফি তার বাবাকে বলেছিল আজ তার জন্মদিন, তাই জন্মদিন উপলক্ষে সে বন্ধুদের বাসায় ইনভাইট করেছে ছোট্ট একটা পার্টি করার জন্য। এ কথা শুনে বাবা তার মুখের ওপরই বলে দিলেন, ‘না, আমার বাসায় এসব জন্মদিন পালন করা যাবে না। কোনো পার্টিও হবে না। তুমি বন্ধুদের ফোন করে বলে দাও। নিজে না বলতে পারলে আমাকে ফোন নম্বর দাও, আমিই বলে দিচ্ছি।’

বাবার এমন কথায় নাফির খুব মন খারাপ হয়েছিল। বাবার ওপর মনে মনে খুব রাগও হয়েছিল তার। সে ভাবছিল, বন্ধুদের এখন সে কী বলবে? কত বড় মুখ করে বন্ধুদের জন্মদিনের পার্টিতে আসতে বলেছে! আর এখন বন্ধুরাই বা কী ভাববে? কিন্তু সে কোনো উপায়ও খুঁজে পাচ্ছিল না। কারণ তাদের বাসায় বাবার কথাই শেষ কথা। সে বাবাকে বেশ ভয় পায়, তাই মুখের ওপর কোনো কথা বলার সাহসও তার নেই।

কিছুক্ষণ পর বাবা এসে দরজায় ধাক্কা দিলেন। বাবার ভয়ে নাফি বাধ্য হয়ে দরজা খুলে দিল। বাবা ঘরে ঢুকেই বললেন, ‘এসব কী হচ্ছে নাফি? সবকিছু ভেঙে ঘরটা তো একদম নোংরা করে ফেলেছ! আর মুখটাও তো একদম পেঁচার মতো করে রেখেছ। যাও, হাত-মুখ ধুয়ে এসো। সকালের নাস্তা খাবে।’

কথাগুলো বলেই বাবা চলে গেলেন। নাফি যেই হাত-মুখ ধুতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে তার ফোনে একটা মেসেজ এলো। সে দেখল, মেসেজটা পাঠিয়েছে তার বন্ধু নাবির। নাবির লিখেছে, ‘WISH YOU A VERY HAPPY BIRTHDAY, NAFI.’

মেসেজটা দেখে নাফি সঙ্গে সঙ্গে নাবিরকে ফোন করল। মন খারাপ করে বলল, ‘নাবির, তুই তো জানিস না বাসায় কী হয়েছে…’

নাবির তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি সব জানি। কাকু তোকে বলে দিয়েছে যে বাড়িতে জন্মদিন পালন করা যাবে না, তাই না? কিন্তু কোনো ব্যাপার না। তোদের বাড়িতে না হোক, অন্য জায়গায় তো আমরা তোর জন্মদিন সেলিব্রেট করতে পারি! তাই আমরা একটা হোটেলে তোর জন্মদিন সেলিব্রেট করব বলে ঠিক করেছি।’

অবাক হয়ে নাফি বলল, ‘তুই কী করে জানলি যে বাবা নিষেধ করে দিয়েছে? আর আমি যদি যাই, বাবা তো রেগে যাবে!’

‘কীভাবে জানলাম তা বলব না। কিন্তু তোকে আসতেই হবে। কাকুর কথা ভাবছিস? আরে কাকু তো জানতেই পারবে না! আমি বিকেলে তোদের বাসায় গিয়ে তোকে নিয়ে আসব।’

‘কিন্তু কখন?’

‘বিকেলের দিকে। তৈরি থাকিস।’

এটুকু বলেই ফোনটা কেটে দিল নাবির। এতক্ষণে নাফির মনটা একটু হালকা হলো। সে ঝটপট হাত-মুখ ধুয়ে নিল। সকালের নাস্তা সেরে নাফির বাবা বাইরে বের হলেন, বলে গেলেন তার ফিরতে দেরি হবে। আর নাফির মা-ও পাশের বাসায় কী যেন একটা কাজে বের হলেন, তারও আসতে দেরি হবে। নাফি টিভি অন করে দেখতে শুরু করল আর অধীর আগ্রহে নাবিরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

এদিকে বিকেল গড়িয়ে গেলেও নাবিরের কোনো দেখা নেই। নাফি বারবার তাকে ফোন করতে লাগল, কিন্তু সে ফোন রিসিভ করছে না। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে এল। নাফি ভাবল, নাবির হয়তো আর আসবেই না। সে বেশ হতাশ হয়ে পড়ল। ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ নাবির এসে হাজির! এসেই সে দেরি হওয়ার জন্য নাফির কাছে সরি বলল।

নাফি আর দেরি না করে নাবিরের সঙ্গে চলে গেল সেই নির্দিষ্ট হোটেলে। হোটেলের একটি রুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই নাফি দেখল চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। পেছনে ফিরে দেখল নাবিরও নেই! সে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল রুমের ভেতর। হঠাৎ পেছন থেকে দরজাটা ‘ঠাস’ করে আটকে গেল। নাফি তখন খুব ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে সে যেই চিৎকার করতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে রুমের সব আলো একসঙ্গে জ্বলে উঠল!

সারা ঘর আলোতে ঝলমল করে উঠল। বেলুন আর ফুল দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ঘরটি। আর ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সবাই একযোগে চিৎকার করে উঠল, ‘সারপ্রাইজ!’

পেছনে ফিরে তাকাতেই নাফি অবাক হয়ে গেল। তার সব বন্ধুর সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা আর মা-ও!

নাফি বিস্মিত হয়ে জানতে চাইল, ‘মা, তোমরা এখানে কখন এলে? আর বাবা, তুমি না বলেছিলে যে জন্মদিন পালন করা হবে না?’

বাবা মুচকি হেসে বললেন, ‘আমি তো বলেছিলাম বাসায় জন্মদিন সেলিব্রেট করা যাবে না। বাইরে কোথাও সেলিব্রেট করতে তো আর মানা করিনি!’

মা বললেন, ‘আমরা আসলে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সকালে যে তুমি ওভাবে রেগে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর করবে, তা আমরা ভাবতেই পারিনি! তাই তো বাধ্য হয়ে নাবিরকে দিয়ে ফোন করালাম। না হলে হয়তো তুমি এখনো গোমড়া মুখ করেই বসে থাকতে।’

নাফি মনে মনে অবাক হয়ে ভাবছিল, বাবা এত রাগী একজন মানুষ, অথচ আজ হঠাৎ এত পাল্টে গেলেন কী করে!

তার মনের কথা বুঝতে পেরেই যেন বাবা বললেন, ‘ভাবছ আমি এত পাল্টে গেলাম কী করে? আমি কিন্তু একই রকম আছি। আর তুমি যদি এখনো গোমড়া মুখে থাকো, তাহলে কিন্তু সত্যিই আবার রেগে যাব!’

নাবির হেসে উঠে বলল, ‘হয়েছে কাকু, আর মজা করতে হবে না। এমনিতেই সকাল থেকে নাফি অকারণে আপনাকে ভয় পেয়ে আছে। ও ভাবতেই পারেনি যে আপনি আর কাকি ওর জন্মদিনটা এভাবে সেলিব্রেট করবেন আর আমাদের সবাইকে এখানে ডাকবেন।’

নাফি আবেগে গদগদ হয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি আর মা মিলে এসব আয়োজন করেছ?’

বাবা কাছে এসে তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘না করে কী উপায় আছে? আর তুমি কি তোমার বাবা-মাকে এতটাই নিষ্ঠুর ভাবো? তোমার জন্মদিনে তুমি গোমড়া মুখে বসে থাকবে, এটা কি হয়? এবার বলো, কেমন লাগল আমার আর তোমার মায়ের সারপ্রাইজ?’

নাফি আর কোনো কথা বলতে পারল না। আবেগে বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল সে। বাবা-মা যে তাকে এভাবে সারপ্রাইজ দেবেন, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। সে আজ বুঝতে পারল, বাবা-মা যতই বকাঝকা করুন বা ওপর থেকে গম্ভীর থাকুন না কেন, তাঁরা সব সময় সন্তানদের হাসি-খুশি দেখতে চান। তাই তো শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবা-মা বিভিন্নভাবে সন্তানদের এমন ভালোবাসার সারপ্রাইজ দিয়ে থাকেন।

শুভ্র/

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!