রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

বিশ্ব পর্যটন দিবস: প্রকৃতির টানে যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তির আনন্দ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

প্রতিদিনের রুটিন, ঘড়ির কাঁটায় বাঁধা জীবন আর কংক্রিটের জঙ্গলে আটকে থাকা মানুষ একটু হাঁফ ছাড়ার সুযোগ খোঁজে। একটু অবকাশ, খোলা বাতাস আর নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে মানুষের অনন্ত আকাঙ্ক্ষা থেকেই জন্ম নেয় ভ্রমণের নেশা। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস।

মানুষ জন্মগতভাবেই পরিব্রাজক। অজানাকে জানার ও অচেনাকে চেনার কৌতূহল মানুষের মজ্জাগত। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানুষ যখন কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন একটি সুন্দর ভ্রমণ তাকে নতুন করে প্রাণশক্তি জোগায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত ভ্রমণ মানুষের মানসিক অবসাদ দূর করে, সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং কাজের প্রতি নতুন করে মনোযোগ ফিরিয়ে আনে। তাই যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে ভ্রমণের কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের এই বদ্বীপে প্রকৃতি যেন দুহাত ভরে রূপ ঢেলে দিয়েছে। একদিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, অন্যদিকে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। পাহাড়ি রূপের পসরা সাজিয়ে বসে আছে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। আবার সিলেটে গেলে চোখে পড়বে দিগন্তজোড়া সবুজ চা বাগান আর হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। চাইলে খুব সহজেই দেশের এসব দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসা যায়।

দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এই খাতের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসা। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। পর্যটন কেন্দ্রগুলোর স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশেই পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এই খাত হতে পারে আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

তবে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন নিয়ে এখন গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যেন প্রকৃতির ক্ষতি না করি, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন বা অপচনশীল বর্জ্য ফেলে আমরা প্রতিনিয়ত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছি। সুন্দরবন বা সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো সংবেদনশীল পরিবেশগত এলাকাগুলোতে পর্যটকদের অসচেতনতা জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পাহাড় কিংবা সমতল, যেখানেই আমরা যাই না কেন, স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও রীতিনীতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

ভ্রমণ মানে শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি বড় শিক্ষাও বটে। নতুন মানুষের সাথে মেলামেশা, ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত আমরা ঘুরব, তবে দায়িত্বশীল হয়ে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রেখে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আমরা যদি ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করি, তবেই পর্যটন কেন্দ্রগুলো দীর্ঘকাল তাদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

আজকের দিনটি হতে পারে নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করার দারুণ একটি উপলক্ষ। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির কাছাকাছি। দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করুন এবং একে সুরক্ষিত রাখুন আগামী প্রজন্মের জন্য।