সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব নারী: বয়স বাড়ছে নাকি বাড়ছে ঝুঁকি?

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

৩৫ বছর বয়সটা একজন নারীর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। ক্যারিয়ার, সংসার আর চারপাশের হাজারো দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে জীবনের এই পর্যায়ে এসে অনেকেই নিজের শরীরের দিকে আলাদা করে নজর দেওয়ার ফুরসত পান না। অথচ ঠিক এই সময়টাতেই নারীদের শরীরে শুরু হয় এক নীরব পালাবদল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে হয়তো আগের সেই সতেজ ভাবটা কিছুটা ম্লান মনে হয়, কিংবা একটু পরিশ্রমেই শরীর জানান দেয় ক্লান্তির কথা। এগুলো কি কেবলই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ, নাকি ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো বড় অসুখের পূর্বাভাস? চিকিৎসকদের মতে, পঁয়ত্রিশের পর শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন আসা একেবারেই স্বাভাবিক, তবে এমন কিছু লক্ষণ আছে যেগুলোকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।

​বয়স পঁয়ত্রিশ পেরোলেই নারীদের শরীরে হরমোনের, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রায় তারতম্য ঘটতে শুরু করে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শরীরের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজমের ওপর। আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও এই বয়সে এসে অনেকেরই ওজন বাড়তে শুরু করে, বিশেষ করে পেটের চারদিকে মেদ জমার প্রবণতা দেখা যায়। পাশাপাশি পেশির ঘনত্ব কমতে থাকে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বলিরেখা বা চামড়া কিছুটা ঢিলে হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো চোখে পড়ে। এছাড়া মাসিক চক্রে সামান্য পরিবর্তন, যেমন—কয়েক দিন আগে-পরে হওয়া বা রক্তস্রাবের পরিমাণ কিছুটা কমে যাওয়াকেও পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের পূর্বাবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই ধরা হয়।

​এই বয়সের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো হাড়ের ঘনত্ব বা বোন ডেনসিটি কমতে শুরু করা। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিলে হাড়ে বা গিঁটে গিঁটে ব্যথার মতো সমস্যা শুরু হতে পারে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর একটু বেশি ক্লান্তি বোধ করা বা ঘুমের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন আসাও অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকরা মনে করেন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ডায়েট এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।

​তবে শরীরের সব পরিবর্তনকে কেবল ‘বয়স বাড়ছে’ বলে এড়িয়ে যাওয়া মারাত্মক ভুল হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শরীরে কিছু অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন—মাসিকের সময় অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তপাত, দুটি মাসিকের মাঝখানে হঠাৎ রক্তক্ষরণ বা তীব্র ব্যথা কখনোই স্বাভাবিক নয়; এটি জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, পলিপ বা অন্য কোনো জটিলতার সংকেত হতে পারে। এর পাশাপাশি ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়া হঠাৎ করেই ওজন অনেক বেড়ে বা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত চুল পড়া, কিংবা সারাক্ষণ চরম অবসাদ বোধ করা থাইরয়েডের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া স্তনে কোনো অস্বাভাবিক চাকা বা পিণ্ড অনুভব করা, স্তনবৃন্তের আকার বা ত্বকে পরিবর্তন আসা এবং তীব্র মানসিক অবসাদ বা মুড সুইংয়ের মতো বিষয়গুলোকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

​বস্তুত, ৩৫-এর পর শরীর তার নিজের ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। প্রয়োজন শুধু সেই ভাষাটা বোঝার এবং নিজের যত্ন নেওয়ার। এই বয়সটা তারুণ্য ফুরিয়ে যাওয়ার নয়, বরং নিজের প্রতি আরও বেশি সচেতন ও যত্নশীল হওয়ার সময়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের নির্দেশনার মাধ্যমে জীবনের এই সুন্দর অধ্যায়টিকেও সম্পূর্ণ সুস্থ ও প্রাণবন্তভাবে উপভোগ করা সম্ভব। নিজের শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলোকে খেয়াল রাখুন এবং অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে মোটেও দ্বিধা করবেন না।