সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

নাটোর থেকে বিশ্বমঞ্চে শেখ রিফাদ মাহমুদ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

জীবনের ক্যালেন্ডারে আজ আরও একটি নতুন বছর যুক্ত হলো শেখ রিফাদ মাহমুদের। বয়সের অংকে তিনি যতটা তরুণ, কাজের পরিধি ও অভিজ্ঞতার ঝুলিতে তিনি ঠিক ততটাই পরিণত। কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণ বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বের ৫৬টি দেশের তরুণদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন তিনি। একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রের এমন বিশ্বজুড়ে বিচরণ সত্যিই বিস্ময় জাগায়।

রিফাদের এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল একেবারে তৃণমূল থেকে। নাটোরের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা এই তরুণ খুব অল্প বয়সেই সমাজসেবায় জড়িয়ে পড়েন। অন্যের তৈরি করা পথে না হেঁটে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’। শিক্ষা সহায়তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং মানবিক ত্রাণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে তার নেতৃত্বের গুণাবলি প্রথম সবার নজরে আসে। আর ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। সে সময় বিশ্বের ১৩৫টি দেশের তরুণদের কাছ থেকে সংহতি আদায় করতে সক্ষম হন তিনি। মানুষকে একতাবদ্ধ করার এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই তিনি আজ বাংলাদেশে জাতিসংঘের ইয়ুথ অ্যাডভাইজরি গ্রুপের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, নীতিনির্ধারণী টেবিলেও সমান দক্ষ রিফাদ। সম্প্রতি ঢাকায় ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদোর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি। সেখানে শুধু প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা নয়, এশিয়া ও আফ্রিকার তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় এবং যুব নেতৃত্ব জোরদার করার বাস্তবমুখী আলোচনা করেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই অভিজ্ঞতাগুলো তিনি দেশের মাটিতেও কাজে লাগাচ্ছেন দারুণভাবে। ২০২৬ সালের শুরুতে ঢাকায় তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘সারভাইভরস ভয়েস সামিট’। ৬৫০ জনের বেশি নীতিনির্ধারক ও অধিকারকর্মীর উপস্থিতিতে এই সম্মেলনেই চালু হয় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ ‘মনবার্তা’ এবং সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন। মানসিক স্বাস্থ্যের মতো একটি অবহেলিত বিষয়ে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

২০২৮ সাল পর্যন্ত কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে নিজের দায়িত্ব পালন করবেন রিফাদ। এর পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকগুলোতে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখছেন, আন্তর্জাতিক যুব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন নিরলসভাবে। আজকের এই বিশেষ দিনে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, নিজের মেধা, একাগ্রতা আর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দিয়ে তিনি নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও যে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সহায়ক ব্যবস্থা গড়তে পারে, শেখ রিফাদ মাহমুদ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নতুন বছরে তার এই পথচলা আরও মসৃণ হোক, তারুণ্যের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।

শুভ্র/