বিশ্ব বিড়াল দিবস: ভালোবাসার সঙ্গে থাকুক দায়িত্ব

শহরের কোনো অলিগলিতে হঠাৎ শোনা যায় মিউ মিউ ডাক। কখনো খাবারের আশায়, কখনো আশ্রয়ের খোঁজে একটি বিড়াল মানুষের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। কেউ তাকে আদর করে, কেউ খাবার দেয়, আবার কেউ তাড়িয়ে দেয়। অথচ মানুষের বসতি গড়ে ওঠার বহু আগে থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করে আসছে এই প্রাণী। বিশ্ব বিড়াল দিবস তাই শুধু বিড়ালকে ভালোবাসার দিন নয়, তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব নতুন করে মনে করারও দিন।
প্রতি বছর ৮ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব বিড়াল দিবস। বিড়ালের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং মানুষের সঙ্গে তাদের ইতিবাচক সম্পর্ক নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিড়ালের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মধ্যেই দিনটি সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাণীটির বাস্তব জীবন ও প্রয়োজন নিয়ে ভাবার সুযোগও তৈরি করে এটি। বিড়াল মানুষের ঘরের পরিচিত প্রাণী হলেও তাদের আচরণ অন্য অনেক পোষা প্রাণীর চেয়ে আলাদা। তারা স্বাধীনচেতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে এবং নিজেদের মতো করে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। একটি বিড়াল কখনো পরিবারের সদস্যের মতো ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, আবার কখনো দূরত্ব বজায় রেখেও মানুষের সঙ্গ উপভোগ করে। এই স্বাতন্ত্র্যই বিড়ালকে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে পোষা বিড়ালের বাইরেও রয়েছে অসংখ্য পথবিড়াল। নগরজীবনে তাদের অস্তিত্ব খুব স্বাভাবিক দৃশ্য হলেও তাদের জীবন মোটেই সহজ নয়। খাবারের অনিশ্চয়তা, যানবাহনের চাপ, রোগবালাই, আঘাত এবং মানুষের নিষ্ঠুরতা তাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রাখে। বিশেষ করে ছোট বিড়ালছানাগুলো অনেক সময় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকে। এ অবস্থায় বিড়ালপ্রেমের সবচেয়ে কার্যকর প্রকাশ হতে পারে দায়িত্বশীল আচরণ। বাড়ির পোষা বিড়ালকে নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া, প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ পরিবেশে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে পোষা প্রাণীকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া কিংবা দায়িত্ব নিতে না পেরে পরিত্যাগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পথবিড়ালের ক্ষেত্রেও মানুষের সামান্য উদ্যোগ বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নির্দিষ্ট স্থানে খাবার ও পানি দেওয়া, অসুস্থ বা আহত বিড়ালকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সম্ভব হলে নির্বীজনের মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত প্রজনন কমাতে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ, প্রতিবেশী এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
শিশুদের প্রাণীর প্রতি সহমর্মী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিড়াল হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। একটি প্রাণীর প্রতি যত্নশীল হওয়া শিশুদের দায়িত্ববোধ, মমতা ও সহাবস্থানের শিক্ষা দিতে পারে। একইভাবে বিড়ালকে অহেতুক ভয় দেখানো, নির্যাতন করা কিংবা বিনোদনের জন্য বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া যে নিষ্ঠুরতা, সে বিষয়েও সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। বিশ্ব বিড়াল দিবসে তাই বিড়ালের ছবি ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য একটু নিরাপদ পৃথিবী তৈরির দায়িত্বটুকুও ভাগ করে নেওয়া হোক।
লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক