ঢাকায় ভ্রমণের নতুন গন্তব্য ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’

ছুটির দিনে বা অবসরে ঢাকার ভেতরেই ঐতিহাসিক কোনো স্থান ঘোরার কথা ভাবছেন? তাহলে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক গণভবন প্রাঙ্গণে সদ্য উন্মুক্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হতে পারে আপনার চমৎকার একটি গন্তব্য। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে।
কী দেখবেন এই জাদুঘরে
জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি ও নথিপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এখানে রয়েছে শহীদদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, আত্মত্যাগের প্রামাণ্য দলিল এবং দুর্লভ আলোকচিত্র। দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত করছে শহীদ আহনাফের মৃত্যুর আগে তার মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিটি।
জাদুঘরের বাইরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে রয়েছে শহীদদের স্মরণে নির্মিত প্রতীকী কবর। ভাস্কর্যের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত এখানে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের স্যালুট জানানোর দৃশ্য এবং শহীদ মুগ্ধর পানি বিতরণের মুহূর্তের ভাস্কর্য দুটি দর্শনার্থীদের বিশেষ মনোযোগ কাড়ছে। এছাড়া বিডিআর বিদ্রোহ, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং বিগত দিনের গুম ও নির্যাতনের তথ্যচিত্রও আলাদা প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখার সুযোগ রয়েছে।
পরিদর্শনের সময়সূচি
জাদুঘরটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মূল ভবনে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য প্রতিদিন তিনটি নির্দিষ্ট সময় বা স্লট রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে দিনে মোট ৯০০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন।
মর্নিং স্লট: বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা
মিড ডে স্লট: দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা
ইভিনিং স্লট: বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
টিকিট ও প্রবেশ প্রক্রিয়া
টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা চাইলে অনলাইনে আগে থেকেই টিকিট বুকিং করতে পারবেন। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কাটার সময় আপনি আপনার সুবিধামতো স্লট বেছে নিতে পারবেন। কোনো নির্দিষ্ট দিনের স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের জন্য বুকিং নিতে হবে।
অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের নিজস্ব কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, টিকিটে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপনাকে মূল ভবনে প্রবেশ করতে হবে।
কীভাবে যাবেন
জাদুঘরটি শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের ঠিক উত্তর পাশে অবস্থিত। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি বা রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ব্যবহার করে খুব সহজেই এখানে পৌঁছানো সম্ভব।
ইতিহাসের সাক্ষী হতে এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের গল্প খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে আজই ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার এই নতুন গন্তব্য থেকে।