রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

বন্ধুত্ব বেঁচে থাক প্রতিদিন

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

শৈশবের সেই টিফিন ভাগ করে খাওয়ার স্মৃতি কি এখনো মনে পড়ে? কিংবা পড়ার চাপে যখন দম বন্ধ লাগে, তখন এক টুকরো স্বস্তির নামই কি বন্ধুত্ব? হ্যাঁ, দিন বদলায়, আমরাও বদলাই, কিন্তু নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের প্রয়োজন কখনোই কমে না। কেন এই সম্পর্ক আমাদের জীবনের এত অবিচ্ছেদ্য অংশ? আগষ্টের এই বিশেষ দিনে তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বন্ধু তো শুধু একটা শব্দ নয়, বরং একটা অনুভূতি, যা আমাদের একাকীত্বের মরুভূমিতে শীতল জলের মতো কাজ করে।

মানুষ মূলত সামাজিক জীব। গবেষণা বলছে, একাকীত্ব ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে আমাদের শরীরের জন্য। উল্টোদিকে, সুস্থ বন্ধুত্ব মানসিক চাপ কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আমাদের দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করে। যখন মন খারাপের মেঘ জমে, তখন কোনো এক বন্ধু এসে এক পশলা বৃষ্টির মতো সব ধুয়েমুছে নিয়ে যায়। এই অদৃশ্য আশ্রয়স্থল ছাড়া আমাদের জীবন বড়ই বেরঙিন মনে হতো। বিশেষজ্ঞরা একে ‘ইমোশনাল অ্যাঙ্কর’ বা আবেগের নোঙর বলে থাকেন, যা জীবনের ঝোড়ো হাওয়াতেও আমাদের স্থির রাখে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটা যেন খানিকটা বদলেছে। টংয়ের দোকানের জমজমাট আড্ডা এখন ফেসবুকের মেসেঞ্জার গ্রুপে বা হোয়াটসঅ্যাপে স্থান করে নিয়েছে। হাজার হাজার বন্ধু আমাদের ভার্চুয়াল জগতে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় কজনকে পাশে পাই? প্রযুক্তির জোয়ারে গা ভাসিয়ে আমরা যেন যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি। শুধু প্রোফাইল ছবিতে ‘লাইক’ দেওয়া মানেই বন্ধুত্ব নয়। আসল বন্ধুত্ব তো তা-ই, যেখানে হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও একটা ‘কিরে, কেমন আছিস?‘ মেসেজ চলে আসে বা অকারণেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা যায়। প্রযুক্তির এই সময়ে আমাদের মানবিক সংযোগগুলো আরও বেশি করে ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

বন্ধুত্ব শুধু আনন্দের মুহূর্ত শেয়ার করা নয়, দুঃখের দিনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোও বটে। আসল বন্ধু আয়নার মতো, সে আপনার ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে, কিন্তু আপনাকে ছেড়ে যাবে না। এই সম্পর্কটা বিশ্বাসের সুতোয় গাঁথা। জীবনের চড়াই-উতরাই পাড়ি দেওয়ার জন্য এমন একটা নিঃস্বার্থ সাহচর্যের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। অনেকে হয়তো ঈর্ষা বা স্বার্থের কারণে বন্ধুত্বের ছদ্মবেশ ধরে থাকে। আমাদের তাই সতর্ক হতে হবে। সুস্থ বন্ধুত্ব আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, ভুল পথে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। জীবনের শেষ বয়সে দাঁড়িয়ে আমরা যেন একমুঠো সোনালী স্মৃতি হাতড়াতে পারি, তার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে।

বন্ধু দিবস মানে শুধু একটি দিন নয়, বরং প্রতিটি দিন। বন্ধুত্বের গাছটিকে প্রতিদিন যত্ন নিয়ে বড় করতে হয়। বছরের এই একটা দিনে হয়তো উপহার বা আড্ডার আয়োজন হতে পারে, কিন্তু আসল উদযাপন তো সারাবছরের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায়। আসুন, আজ সেই সব বন্ধুদের কথা মনে করি, যারা আমাদের জীবনের কঠিন সময়গুলোকে রঙিন করে তুলেছে। তাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। মনে রাখবেন, সম্পর্কের যত্ন নিতে হয়, নাহলে তা ম্লান হয়ে যায়। আসুন আমরাও এক একজন এমন বন্ধু হয়ে উঠি, যার ওপর নিঃসংকোচে ভরসা করা যায়। বন্ধুত্ব বেঁচে থাক হৃদয়ের গহীনে, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে।