বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

তরুণ লেখকদের বাতিঘর: কলমে কলমে কাটুক আঁধার

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

তারিখটা ছিল ২৩ জুলাই ২০১৮। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন স্বপ্নবাজ তরুণ ভাবলেন, দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা তরুণদের সুপ্ত প্রতিভাগুলো লেখনীর মাধ্যমে বিকশিত হওয়া প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। শুরুর সেই ছোট্ট উদ্যোগটি আজ তরুণ লেখকদের জন্য একটি আস্থার বাতিঘর। বর্তমানে পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে দেশের অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম। ফোরামের সঠিক নির্দেশনায় সদস্যদের লেখা এখন নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে জাতীয় দৈনিকগুলোর পাতায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন সময়ে ফোরামের সঙ্গে পথচলার নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেছেন কয়েকজন সদস্য। তাদের সেই ভাবনাগুলোই একসঙ্গে গেঁথেছেন ফোরামের সদস্য উম্মে সালমা

কলমের আড়ালে গড়ে ওঠা আত্মবিশ্বাসের গল্প

‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম’ আমার জন্য শুধু একটি সংগঠন নয়, এক নির্মল আত্মপ্রকাশের পথ। এখান থেকে আমি শিখেছি সুন্দরভাবে কথা বলা, ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা, প্রোগ্রাম আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বই পড়ে সৃজনশীলতা বাড়ানো। নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার চর্চা ছিল ফোরামের অন্যতম শিক্ষা। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই ফোরামের মানুষগুলো, যারা প্রতিনিয়ত নিঃশব্দে দুর্দান্ত কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সংস্পর্শে এসে নতুন কিছু শেখার তীব্র আগ্রহ জন্মেছে। এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার একান্ত কামনা, ফোরাম হোক নবীন লেখকদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়, ছড়িয়ে পড়ুক আলোর মতো।

সাজেদুল ইসলাম রাব্বি, শিক্ষার্থী, ভোলা সরকারি কলেজ।

oplus_1026

তরুণ কলাম লেখকদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ

তরুণ কলাম লেখকরা মূলত সমাজের দর্পণ। তারা তাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতি, সমস্যা, সমাধান এবং সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। তাদের লেখায় উঠে আসে শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং সামাজিক নানা বিষয়াবলি। এছাড়াও প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেন তারা। যে সকল বিষয়ে তারা সরাসরি প্রতিবাদ বা দাবি করতে পারেন না, সে সকল বিষয়ে তারা কলাম লেখার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। এমনকি এই লেখার মাধ্যমে সরাসরি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। তরুণ লেখকদের কোনো বিষয়ে কলাম লেখার জন্য সে বিষয়ে অনেক গবেষণা ও জ্ঞান অর্জন করা লাগে, যা তাদের ভবিষ্যতে কাজে দেবে। এছাড়াও তরুণ কলাম লেখকদের লেখালেখি বিষয়ক বিভিন্ন পেশায় যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে তাদের উপার্জনের পথ উন্মুক্তও হলো এবং দেশের বেকারত্বও হ্রাস পেল। অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজে বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে তরুণ কলাম লেখকরা।

কাজী মালিহা আকতার, শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।

সুষ্ঠু ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে লেখক ফোরামের অবদান

সৃষ্টিশীল চিন্তার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করাই লেখকের প্রকৃত দায়িত্ব। লেখক ফোরাম সেই দায়িত্বকে ধারণ করে পথ চলেছে নিরলসভাবে। লেখক ফোরামের লেখালেখিতে উঠে আসে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, শিক্ষানীতি, প্রতিবাদ, সংস্কার এবং সাহিত্যের রূপ-রস, মানবাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যু। এখানে অনুপ্রাণিত করা হয় সমাজ ও রাষ্ট্রকে তারুণ্যের কলমে উদ্ভাসিত করতে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা কণ্ঠস্বর তুলে ধরেছে সাম্য, ন্যায় ও মুক্তচিন্তার পক্ষে। দেশের জাতীয় পত্রিকায় তুলে ধরেছে কলাম, চিঠি, ফিচার, প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প। এই ফোরাম বিশিষ্ট লেখকবৃন্দ, গবেষক ও চিন্তাবিদদের একত্র করে গড়ে তুলেছে এক জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য ও সুন্দরের চর্চা হয় প্রতিনিয়ত। এই ফোরাম শুধু একটি সাহিত্যিক সংগঠন নয়, বরং একটি নীরব বিপ্লব, যা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আলোকিত করতে আত্মপ্রত্যয়ী। লেখনীকে হাতিয়ার করে তারা গড়ে তুলছে এক সজাগ, সচেতন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্ন।

তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ।

আলোর পথের দিশারি: তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

এটি একটি সম্মিলিত অভিযাত্রা। একঝাঁক শান্তির পায়রা যেমন আকাশে উড়ে চলে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে, তেমনই সম্ভাবনার আলোকে প্রজ্বলিত করতে এবং সেই আলোয় দেশ ও জাতিকে আলোকিত করতে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কাজ করে যাচ্ছে। এই আলোকিত ভুবনে নিজেকে সংযুক্ত করতে পেরে আমি গর্বিত। ২০২৪ সালের বইমেলায় আমার কবিতার বই “বেহিসেবি রঙ” প্রকাশিত হয়। এই বই নিয়ে যখন বিভিন্ন পত্রিকায় ফিচার ছাপা হয়েছিল, সেই সূত্রেই বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম সম্পর্কে প্রথমে অবগত হই। তারপর ফোরামের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর দেশ ও সমাজের কল্যাণের জন্য কলমযোদ্ধাদের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে আগ্রহী হয়ে উঠি এবং অপেক্ষায় থাকি ফোরামের সদস্য হওয়ার সুযোগ আসার। অবশেষে ফোরামের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ সদস্য হওয়ার সুযোগ পাই। পরে ফোরামের নির্দেশনা অনুযায়ী লেখা পত্রিকাতে পাঠাতে শুরু করি এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় আমার ৫টি লেখা প্রকাশ পেলে ফোরামের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যপদ লাভ করি। সেই সাথে ফোরামের যথাযথ পরিচর্যার কারণেই আমার লেখা নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে, যা একসময় স্বপ্ন দেখতাম, কল্পনা করতাম, ভাবতাম। জাতীয়ভিত্তিক পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বিশাল পরিবারের সদস্য হিসেবে আমার প্রত্যাশা, আজীবন এই বন্ধনে নিজেকে মিশিয়ে রাখব। সম্মিলিত প্রয়াসে ফোরামের আলো দিন দিন আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং বিস্তৃত হয়ে নতুন নতুন লেখকদের প্রতিষ্ঠিত করতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।

নুসরাত জাহান জেরিন, শিক্ষার্থী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজ।

স্মরণীয় মুহূর্ত এবং অনুপ্রেরণা

সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ফোরামের আরও একটি কার্যবর্ষ। ফোরামের পথচলার কিছু মুহূর্ত আজও মনে গেঁথে আছে। এ কার্যবর্ষের কিছু মুহূর্ত শুধু স্মরণীয় নয়, তা আমাদের প্রতিটি সদস্যের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উৎস। তার মধ্যে একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল সদ্য বিদায়ী কার্যবর্ষে আয়োজিত সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় ও সমুদ্রসৈকতের একদিনের আনন্দ ভ্রমণ। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যখন আমরা ফোরামের স্লোগান সমেত স্থিরচিত্র নিচ্ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল এটি এক স্বপ্নের ঘোষণা এবং ঐক্যের প্রতীক। সমুদ্রের বিশালতা আমাদের শিখিয়েছে চিন্তার কোনো সীমা নেই আর কলমেরও থেমে থাকতে নেই। সেই আনন্দ ভ্রমণে আমরা যেমন প্রকৃতির কাছাকাছি এসেছিলাম, তেমনি পরস্পরের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব এবং বন্ধুত্বের এক সম্মিলিত প্রয়াস। আজকের এই দিনে আমরা ফিরে দেখি সেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে, যা আমাদের এগিয়ে যেতে শেখায় এবং অনুপ্রেরণা জোগায় নতুন করে কলম ধরার।

সাব্বির হাসান নিরব শিক্ষার্থী, বাজিতপুর সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

শুভ্র/