মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

গোপন ক্যামেরার আতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায়

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে বা ছুটির আনন্দ কাটাতে আমরা অনেকেই হোটেল বা রিসোর্টে উঠি। চমৎকার সাজানো ঘর আর আরামদায়ক পরিবেশ দেখে মন ভালো হয়ে গেলেও আজকাল অনেকের মনেই একটি অজানা আতঙ্ক কাজ করে। আর তা হলো গোপন ক্যামেরার ভয়। সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই হোটেল রুম বা চেঞ্জিং রুমে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফাঁসের খবর শোনা যায়। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরাগুলো এতই ছোট হয়ে গেছে যে খালি চোখে সেগুলো খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। তবে একটু সতর্ক হলে আর হাতের স্মার্টফোনটি ঠিকমতো ব্যবহার করতে জানলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে খুব সহজেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

গোপন ক্যামেরাগুলো সাধারণত ঘরের এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয় যেখান থেকে পুরো ঘরের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যায়। স্মোক ডিটেক্টর, দেয়াল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, এসির ভেন্ট, টিভি বা সেট-টপ বক্স এবং আয়নার পেছনে এগুলো লুকিয়ে রাখার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে রুমে ঢোকার পর কিছুটা সময় নিয়ে চারপাশটা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সাধারণ কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

>> রুমে প্রবেশ করে প্রথমেই চারপাশ খুব ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখুন। অস্বাভাবিক কোনো বস্তু, যেমন এমন কোনো ঘড়ি বা শোপিস যা ঠিক মানানসই লাগছে না, সেগুলোর দিকে নজর দিন। কোনো ছোট ছিদ্র বা অপ্রয়োজনীয় তার দেখতে পেলে সতর্ক হতে হবে।

>> ঘরের সমস্ত আলো নিভিয়ে দিন এবং জানালার পর্দা টেনে ঘরটি পুরোপুরি অন্ধকার করে ফেলুন। এবার আপনার স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে ঘরের চারপাশে আলো ফেলে পরীক্ষা করুন। গোপন ক্যামেরার লেন্সে আলো পড়লে সেটি কাচের মতো চকচক করে উঠবে। কোথাও সন্দেহজনক আলোর প্রতিফলন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করুন।

>> রাতের অন্ধকারে ভিডিও ধারণের জন্য বেশিরভাগ গোপন ক্যামেরায় ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। মানুষের চোখ এই আলো দেখতে না পেলেও স্মার্টফোনের ক্যামেরা তা খুব সহজেই ধরতে পারে। ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার করে ফোনের ক্যামেরা চালু করুন এবং পুরো ঘরটি স্ক্রিনে দেখতে থাকুন। যদি স্ক্রিনে বেগুনি বা সাদা রঙের কোনো আলোর বিন্দু জ্বলজ্বল করতে দেখেন, তবে বুঝতে হবে সেখানে ইনফ্রারেড ক্যামেরা রয়েছে।

>> বর্তমান সময়ের গোপন ক্যামেরাগুলো সাধারণত ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বা ভিডিও পাঠানো হয়। হোটেলের ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত হওয়ার পর স্মার্টফোনে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক স্ক্যানার অ্যাপ ব্যবহার করে দেখতে পারেন সেই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক কোনো ডিভাইস যুক্ত আছে কি না। আইপি ক্যামেরা বা অদ্ভুত কোনো নাম দেখলে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান।

>> আয়নার পেছনে কোনো গোপন ক্যামেরা আছে কি না তা বুঝতে আঙুলের নখ দিয়ে ছোট একটি পরীক্ষা করতে পারেন। আপনার আঙুলের নখ আয়নার ওপর রাখুন। যদি নখ এবং আয়নার প্রতিবিম্বের মাঝে কিছুটা ফাঁকা জায়গা থাকে, তবে সেটি সাধারণ আয়না। কিন্তু যদি নখ আর প্রতিবিম্ব সরাসরি একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকে, তবে আয়নার পেছনে কিছু লুকিয়ে রাখার আশঙ্কা প্রবল।

>> সন্দেহজনক কোনো যন্ত্রের কাছাকাছি গিয়ে মোবাইল থেকে কাউকে কল করার চেষ্টা করুন। অনেক সময় গোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত তরঙ্গের কারণে ফোন কলে বাধা বা অদ্ভুত শব্দ তৈরি হয়। এমন কিছু অনুভব করলে ওই জায়গাটি ভালোভাবে তল্লাশি করা প্রয়োজন।

নিজেদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব অনেকটাই আমাদের নিজেদের ওপর নির্ভর করে। ছুটির আনন্দ যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। নতুন কোনো জায়গায় গেলে এই ছোট কিন্তু কার্যকর উপায়গুলো মেনে চললে আপনি যেমন মানসিক শান্তিতে থাকতে পারবেন, তেমনি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোও পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে।