রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

বাবা দিবসের ভিড়ে আমার ‘মামাজান’

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

আজ যখন চারদিকে বাবা দিবস নিয়ে সবাই ব্যস্ত, সবার টাইমলাইন যখন বাবার প্রতি ভালোবাসার বার্তায় মুখরিত, ঠিক তখনই আমার মনে একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়ে গেল—ক্যালেন্ডারের পাতায় কেন কোনো ‘মামা দিবস’ নেই? অন্তত আমার জীবনে ভালোবাসার অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মামাজান আমার বাবার চেয়ে কোনো অংশে কম নন।

আমি আমার মামার বড় ভাগ্নী, উনার ভীষণ শখের এবং আদরের ভাগ্নী। শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত ভালোবাসা আর শাসনের এক অপূর্ব মিশ্রণ দিয়ে মামা আমাকে আগলে রেখেছেন, তিল তিল করে বড় করে তুলছেন। আমাদের সমাজে সাধারণত ভাবা হয় সন্তানের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার বা জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র দাবিদার শুধু বাবা। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমার বাবার যেমন অধিকার ও অবদান আছে, ঠিক তেমনি আমার মামারও সমান দাবি রয়েছে। তিনি শুধু একজন মামা নন, বরং আমার জীবনের অন্যতম প্রধান অভিভাবক।

আমার মামাজান যেন আমার জীবনের সব সমস্যার এক জাদুকরী সমাধানকারী। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি বা মানসিক টানাপোড়েনের মতো বড় বড় সংকট থেকে শুরু করে পড়ার টেবিলের খাতার জটিল গণিতের সমস্যা—সবকিছুই তিনি খুব সহজে সমাধান করে দেন। যখনই কোনো কিছু নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়ি, মামার কাছে গেলেই যেন সব পানির মতো সহজ হয়ে যায়।

সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো আমাদের মনের সুক্ষ্ম বন্ধনটা। যখন আমার মন খারাপ হয়, পৃথিবীর কেউ না বুঝলেও আমার একমাত্র মামাজান ঠিকই আমার ভেতরের নীরব অনুভূতিটা বুঝে যান। তার মুখের একটা সান্ত্বনার কথা বা মাথায় পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে দেওয়াটাই আমার সব মেঘ কেটে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বাবা যেমন আমার জীবনের শক্ত খুঁটি, মামাও ঠিক তেমনি আমার সুনীল আকাশ। এই দুই মানুষের যৌথ ভালোবাসার ছায়াতেই আমি প্রতিদিন নতুন করে ডানা মেলার সাহস পাই। ক্যালেন্ডারের পাতায় মামা দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে থাকুক আর না থাকুক, আমার মনের আঙিনায় মামার জন্য ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের।

শুভ্র/