মনোমুগ্ধকর বৃষ্টি লিলি

রেইন লিলি বা বৃষ্টি লিলি, বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়লেই যেন এই গাছটি তার প্রাণ ফিরে পায়। ফুলে ফুলে ভরে উঠে। ফুলগুলো দেখতে অনেকটা ছোট আকারের লিলি বা শাপলা ফুলের মতো। আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্রই এই ফুল গাছটির দেখা মিলে। গ্রামাঞ্চলের দিকে এটি ‘ছোট পেঁয়াজ ফুল’ নামেও পরিচিত।
গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Zephyranthes, এটি Amaryllis পরিবারের সদস্য। এটি সাধারণত ১০-৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, ক্ষুদ্রাকৃতির বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের পাতা সরু লম্বাটে এবং গাছের গোড়া থেকে বের হয়, পাতা গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। এটি কন্দ জাতীয় উদ্ভিদ, কন্দ মাটির নিচে থাকে এবং কন্দ থেকেই পরবর্তীতে গাছ জন্মে। এই গাছটির ফুল এককভাবে ফোটে এবং এর পাপড়ির সংখ্যা সাধারণত ৬ টি।
এই ফুল গোলাপি, সাদা, হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। এছাড়াও বিশেষ হাইব্রিডের ক্ষেত্রে হালকা বেগুনি এবং আকাশি সহ বেশ কিছু বর্ণের হয় তবে এসব প্রজাতি বিরল। রেইন লিলির জন্মস্থান মূলত দক্ষিণ আমেরিকা, বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এটি চাষ করা হয়। চাষ করার পদ্ধতি সহজ এবং খুব বেশি যত্নেরও প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে গাছটির বৃদ্ধি ভালো হয়। নার্সারি, পার্ক, রাস্তার ধারে এদের দেখা মিলে পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আঙিনায়, শহরে বাসাবাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দায় ছোট্ট টবে এটি চাষ করতে দেখা যায়।
রেইন লিলি সাধারণত বর্ষাকালে ফোটে। বর্ষাকাল ছাড়াও যখনই বৃষ্টি হয় তখনই মনোমুগ্ধকর এই ছোট ফুলগুলোর দেখা পাওয়া যায়। বৃষ্টির সঙ্গে এই ফুলের সম্পর্ক গভীর। যতদিন বৃষ্টি হবে ততদিন বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে ফুল ফোটবে, বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলে ফুল ফোটাও বন্ধ হয়ে যায়।
রেইন লিলি সাধারণত বাগানের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে চাষ করা হয়ে থাকে। এর কিছু ঔষধি গুণাবলিও রয়েছে- ব্যথা বা ফোলা জায়গায় এটি ব্যবহারে উপকার পাওয়া যেতে পারে, এর কন্দ বাতের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, শ্বাসকষ্ট কিংবা কাশির উপশম হিসেবেও এটি ব্যবহার হয়। এই উদ্ভিদটির কিছু প্রজাতি বিষাক্ত হতে পারে তাই ব্যবহারের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।