হঠাৎ বৃষ্টির দিনে বন্ধুদের সাথে হাওর বিলাস

মেঘলা আকাশ। মনে হচ্ছে এখনই ঝুম বৃষ্টি নামবে, কিন্তু কেবলই মেঘের আনাগোনা। পড়ার টেবিলে বসে দুপুরের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ শুরু হলো হালকা ঝোড়ো হাওয়া, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো অঝোর ধারায় বৃষ্টি। পড়ার টেবিলের পাশে জানালা দিয়ে সেই বৃষ্টি উপভোগ করছিলাম। তবে তা বেশিক্ষণ করা হলো না, দুপুর ১টা থেকে পরীক্ষা। তাই বৃষ্টি না থামলেও আমার থেমে থাকা চলবে না। বৃষ্টির মধ্যেই চটপট তৈরি হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম।
পৌঁছাতে পৌঁছাতে পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সামনে গিয়ে দেখলাম কয়েকজন সহপাঠী দাঁড়িয়ে আছে। বেশ কিছুদিন পর দেখা হওয়ায় সবার সাথে কুশল বিনিময় করেই পরীক্ষার হলে ঢুকলাম।

পরীক্ষা শেষ করে বের হতেই আরিফিন বললো, “অনেকদিন পর আমাদের দেখা, চলো একটু হাওর বিলাস করে আসি!” যেই কথা সেই কাজ। আমাদের বাজিতপুর সরকারি কলেজের কাছেই- “পাটুলি ঘাট”। বিকেলবেলা অনেকেই সেখানে ঘুরতে যায়।
আমরা ছয় বন্ধু- আরিফিন, মুস্তাকিম, মেসকাত, নজরুল, সজীব এবং আমি পাটুলি ঘাট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কলেজের সামনে থেকে জনপ্রতি বিশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে চলে গেলাম সেখানে। রিকশা থেকে নামা মাত্রই চোখে পড়লো হাওরের সৌন্দর্য। বৃষ্টির পর মুহূর্তের হালকা সূর্যের আলোয় হাওরের পানি ঝলমলিয়ে উঠছে, যা সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো দৃশ্য।
এটি একটি ফেরি ঘাট। এখান থেকেই মূলত ঘোড়াউত্রা নদীর ওপারের স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে। অষ্টগ্রাম, হুমায়ুনপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এই ফেরি ঘাট। ঘাটে নোঙর করা অনেক ছোট-বড় নৌকার ভিড়ে আমার নজর কাড়লো একটি ছোট ছিমছাম নৌকা। নৌকাটিতে যাত্রী পরিপূর্ণ ছিল। আর তাদের সবাই স্কুল ড্রেস পরা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমি তাদের দেখে মনে মনে ভাবতে লাগলাম, কী অনিশ্চিত জীবন তাদের! চাইলেই তারা হুটহাট স্কুল থেকে বাড়ি কিংবা বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে পারে না। কখন নৌকায় যাত্রী পরিপূর্ণ হবে, আবহাওয়া ভালো থাকবে কি না এ সবকিছু বিবেচনা করেই নৌকা ছাড়তে হয়।
সেখানে আরও অনেক কিছু দেখলাম। কেউ এসেছে বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে, কেউবা বাজার-সদাই করে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছে বাড়ির ফেরার আশায়। আমাদেরও ফেরার সময় হয়ে এলো। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে। তাই কিছু খাওয়া-দাওয়া করে, সবাই মিলে ছবি তুলে আমরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হলাম।
পরিকল্পনা ছাড়া বন্ধুদের সাথে হঠাৎ এমন কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। কোনো এক বিকেলে বন্ধুদের হাত ধরে অজানা কোনো দিগন্তে হারিয়ে যাওয়ার মানেই হয়তো বন্ধুত্বের আসল মানে।