রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার রক্তদান

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

কয়েক সেকেন্ডের একটি ছোট্ট সিদ্ধান্ত অচেনা কারোর জীবনে নতুন ভোর এনে দিতে পারে। অন্য কাউকে বাঁচানো বা কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান নয়; এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ ইচ্ছাশক্তি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ।

নিজের শরীর থেকে দেওয়া কয়েক ফোঁটা রক্ত একজন মায়ের বুকের কান্না থামাতে পারে, ফিরিয়ে দিতে পারে সন্তানের মা ডাকার অধিকার। এ পর্যন্ত আমার দুইবার রক্ত দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রথমবার রক্ত দিয়েছিলাম তীব্র অসুস্থতায় অপারেশন থিয়েটারের বাইরে রক্তের অপেক্ষায় থাকা এক ছোট্ট মেয়েকে, যার মুখটি ছিল ভীষণ মায়াবী। তার বাবা-মায়ের চোখে ছিল অজানা ভয় আর উৎকণ্ঠা। এক ব্যাগ রক্তের বিনিময়ে সেই পরিবারে আবার প্রাণোচ্ছল হাসি ফিরে এসেছিল। হাসিমাখা মায়ের মুখ আর বাবার তৃপ্তির হাসি দেখে মনে হয়েছিল, মানুষ হিসেবে আমার জন্মটা আজ সার্থক। প্রথমবার রক্ত দেওয়ার সেই অভিজ্ঞতা এতই দারুণ ছিল যে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় যেন আনন্দের ঝড় বইছিল। হৃদয়ের গভীর থেকে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আজও বেঁচে আছে।

দ্বিতীয়বার রক্ত দিয়েছিলাম একজন মাকে। যে মা তাঁর সন্তানের জন্য নীরবে সব কষ্ট সহ্য করেন, আমার রক্তদান ছিল সেই মায়ের কষ্ট লাঘবের এক সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র।

দৈনন্দিন জীবনের ছকে বাঁধা রুটিন থেকে বেরিয়ে এসে কারো জীবন বাঁচানোর গল্পে ছোট্ট একটি জায়গা করে নিতে পেরেছি—এটাই আমার জীবনের সার্থকতা, পরম প্রাপ্তি এবং মানুষ হিসেবে নিজের আসল পরিচয়।

শুভ্র/