বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

কালের আবর্তে সাইকেল: চিঠির যুগ থেকে পরিবেশ বাঁচানোর লড়াই

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

ভাবুন তো পুরনো সেই দিনগুলোর কথা! যখন চিঠি বা মানিঅর্ডারের জন্য মানুষ তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করত। দূরে কোথাও সাইকেলের ক্রিং ক্রিং শব্দ শুনলেই বুকটা ধক করে উঠত, এই বুঝি কাঙ্ক্ষিত চিঠিটি এল। ডাকপিয়নের সেই সাইকেলের সাথে জড়িয়ে ছিল কত মানুষের আবেগ আর অপেক্ষা। সময় পাল্টেছে। আজ আর চিঠির জন্য কেউ সেভাবে অপেক্ষা করে না। কিন্তু সাইকেলের চাকা থেমে নেই। বরং সময়ের সাথে সাথে এটি আমাদের জীবনে আরও নতুন ও প্রয়োজনীয় রূপে জায়গা করে নিয়েছে।

রানার থেকে আধুনিক ডেলিভারি বয়

একসময় ডাক হরকরা বা রানাররা পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতেন খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এরপর তাদের কষ্ট কমাতে আর সময় বাঁচাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় দুই চাকার সাইকেল। সেই সাইকেলই আজ আমাদের শহরের অলিগলিতে ছুটে চলা ডেলিভারি কর্মীদের প্রধান ভরসা।

অনলাইনে খাবার অর্ডার হোক বা দরকারি কোনো পার্সেল, যানজট এড়িয়ে দ্রুত দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাইকেলের কোনো বিকল্প নেই। ডাকপিয়নের সাইকেলের সেই টুংটাং শব্দের জায়গা আজ হয়তো নিয়েছে মোবাইলের নোটিফিকেশন টোন। কিন্তু মানুষের প্রয়োজন মেটানোর সেই পুরনো দায়িত্বটা সাইকেল আজও ঠিকঠাক পালন করে যাচ্ছে।

ধোঁয়ার শহরে এক টুকরো স্বস্তি

রাস্তায় বের হলেই এখন তীব্র যানজট আর গাড়ির কালো ধোঁয়া। এই দমবন্ধ করা পরিবেশে সাইকেল কিন্তু দারুণ এক স্বস্তির নাম। এটি চালানোর জন্য কোনো জ্বালানি লাগে না। তাই গাড়ি বা মোটরসাইকেলের মতো পরিবেশও দূষণ করে না।

যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বা গাড়িতে বসে না থেকে সাইকেলে খুব সহজেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। প্রতিদিনের যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহার করলে শহরের কার্বন নিঃসরণ যেমন কমে, তেমনি নিজের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। জিমের ট্রেডমিলে না দৌড়ে প্রতিদিনের যাতায়াতটাই যদি সাইকেলে হয়, তবে শরীর আর মন দুটোই ফুরফুরে থাকে।

শুধু বাহন নয়, একটি সামাজিক আন্দোলন

সাইকেল এখন আর শুধু ব্যক্তিগত যাতায়াতের মাধ্যম বা শখের বসে চালানোর বিষয় নয়। এটি এখন একটি সচেতনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ রক্ষার দাবি বা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে এখন প্রায়ই সাইকেল র‍্যালি চোখে পড়ে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাইক্লিং কমিউনিটি গড়ে উঠছে। ছুটির দিনে দলবেঁধে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ার আনন্দময় দিকগুলো এখন বেশ জনপ্রিয়। মানুষ বুঝতে শিখছে, নিজেদের সুস্থ রাখতে এবং শহরকে বাসযোগ্য করতে সাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শেষ কথা

সাইকেল আসলে শুধু লোহা আর টায়ারের কোনো যন্ত্র নয়। এটি আমাদের অতীত, বর্তমান এবং বাসযোগ্য ভবিষ্যতের একটি চমৎকার মেলবন্ধন। একসময় যা ছিল কেবল খবর পৌঁছানোর মাধ্যম, আজ তা আমাদের পরিবেশ আর স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার। কালের আবর্তে সাইকেলের রূপ বা চালক হয়তো পাল্টেছে, কিন্তু এর গুরুত্ব আমাদের জীবনে এতটুকুও কমেনি।

শুভ্র/