রেজাল্ট শিট প্রকাশে সতর্কতা, বন্ধুর হাতে জিপিএ-৫ হারানোর শঙ্কা!

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে আজ। ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, অভিনন্দন আর রেজাল্ট শিট প্রকাশের প্রতিযোগিতা। তবে এবার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন একদল সচেতন বন্ধুবান্ধব। তাঁদের পরামর্শ, রেজাল্ট শিট প্রকাশের আগে বন্ধুদের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কারণ, বন্ধু যে বন্ধুর ভালো ফল সহ্য করতে না পেরে গোপনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে বসবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়!
সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ থেকে পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল আসার ঘটনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, এক বন্ধু আরেক বন্ধুর অজান্তেই তার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন। এরপরই নাকি বদলে যায় ফলাফলের চিত্র।
ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন এক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এত দিন ফল খারাপ হলে বন্ধুরা সান্ত্বনা দিত, আর ভালো হলে মিষ্টি খাওয়াতে বলত। এখন ভালো ফল করলেও ভয়, কোন বন্ধু আবার মিষ্টির বদলে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে বসে!
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘জিপিএ-৫ পেয়েছি। ফেসবুকে পোস্ট দিতে গিয়েও হাত কাঁপছে। বন্ধুরা সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে, কিন্তু কে যে আড়ালে আমার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে বসে, তা বুঝব কীভাবে?’
আরেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি আপাতত নিজের রেজাল্ট শিট কাউকে দেখাচ্ছেন না। এমনকি ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর দিয়েছেন, বিষয়ভিত্তিক নম্বর জানাননি। তাঁর ভাষায়, ‘বন্ধুদের হাতে রেজাল্ট শিট গেলে কোন সাবজেক্টে কত পেয়েছি, সেটাও তো জেনে যাবে। তারপর যদি কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু নম্বর বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে নেয়!’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন, ফলাফল প্রকাশের পর বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখলেও রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও জন্মতারিখ গোপন রাখা উচিত। প্রয়োজনে রেজাল্ট শিটের ওপর বন্ধুর ছবি বসিয়ে প্রকাশ করারও পরামর্শ দিয়েছেন কেউ কেউ, যাতে আবেদন করতে গেলে আগে নিজের বন্ধুকে শনাক্ত করতে হয়!
শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, পরীক্ষার হলে নকল ঠেকাতে যেমন নজরদারি থাকে, তেমনি ফল প্রকাশের পর বন্ধুদের অতিরিক্ত শুভাকাঙ্ক্ষা থেকেও সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকা দরকার। কারণ, নিজের ফল নিজে পুনর্নিরীক্ষণ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই যদি বন্ধু সেই দায়িত্ব পালন করে ফেলে, তাহলে শিক্ষার্থীর আর কী করার থাকে!
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন কি অন্য কেউ করতে পারেন? আবেদনকারীর অনুমতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা কোথায়? আর পুনর্নিরীক্ষণের পর নম্বর কমে যাওয়ার সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা সে বিষয়ে আগে থেকে নিশ্চিত তথ্য পাবেন কীভাবে?
এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত একটাই পরামর্শ: ফল ভালো হলে আনন্দ করুন, মিষ্টি খান, ছবি তুলুন। তবে রেজাল্ট শিট প্রকাশের আগে বন্ধু তালিকাটা আরেকবার দেখে নিন।
কারণ, জীবনে বন্ধুর অভাব হলে নতুন বন্ধু পাওয়া যায়, কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের পর জিপিএ-৫ হারিয়ে গেলে সেই বন্ধুত্ব দিয়ে ফলাফল ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো গবেষণাধীন!