হাওরাঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্য ও জীবন সংগ্রামের বাস্তবতা

মো. শরীফুল ইসলাম:
“বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর”—কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতোই আমাদের এই ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে বলা যায় দেশের প্রতিটি জেলা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। কবি সৈয়দ শামসুল হকের ভাষায়, “ধানের দেশ গানের দেশ তেরো শত এ নদীর দেশ বাংলাদেশ!”
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। হাওরের নাম শুনলেই প্রকৃতিপ্রেমীদের মন আনন্দে নেচে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে হাওরের বিশাল জলরাশি। হাওরের বুকে ভাসমান গ্রামগুলো দেখলে মনে হয়, এ যেন নীল জলরাশির বুকে এক স্বর্গরাজ্য। বিশেষত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যগুলো দেখলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে, যার মধ্যে ৯৭টি কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। কিশোরগঞ্জ জেলাকে বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এটি দেশের সবচেয়ে নিচু জেলা হিসেবেও পরিচিত।
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই অপরূপ সৌন্দর্য কি হাওরবাসী স্বস্তিতে উপভোগ করতে পারে? কীভাবে শুরু হয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের পথচলা? সারাটা দিনই বা কেমন কাটে তাদের? হাওরের এই প্রাকৃতিক বিস্ময়কর দৃশ্য কি তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে?
ধারণা করা হয় ‘হাওর’ শব্দটি সংস্কৃত ‘সাগর’ শব্দ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। ভাষাবিদদের মতে সাগর থেকে সায়র এবং সেখান থেকে হাওর—এই ভাষাগত বিবর্তনের মাধ্যমে হাওর শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। সাধারণত বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে জমে থাকা বিশাল জলরাশিকে দেখতে অনেকটাই সাগরের মতো মনে হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে একে সাগর নামে ডাকা হতো, যা কালের আবর্তনে আজ হাওর নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন হাওরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু মুহূর্ত উপভোগ করার জন্য। অথচ হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন বড়ই বৈচিত্র্যময় ও সংগ্রামমুখর। প্রতিবছর প্রায় অর্ধেক সময় পানিতে আবদ্ধ থাকে এবং বাকি সময়টা থাকে শুষ্ক। বর্ষা মৌসুমের পরপরই পানি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যায়। তারপর শুরু হয় হাওরের কৃষকদের বোরো ধান চাষের উপযুক্ত সময়। সাধারণত আমাদের দেশের মাটি খুবই উর্বর, যার ফলে কৃষিকাজে তুলনামূলক কষ্ট কম হয়। বীজতলা থেকে চারা তুলে নরম কাদামাটিতে রোপণ করেন গ্রামের কৃষকেরা। গ্রীষ্মকালে শুরু হয় কৃষকের সোনালি ধান ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা। এই সময়ে সোনালি ফসল ঘরে তুলতে হাওরের কৃষকেরা চরম ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই, ধান সেদ্ধ করা, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে সবাই ব্যস্ত থাকেন।
বর্ষাকালে উজানে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। নদীগুলো প্রতিবছর বৃষ্টির পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি বয়ে আনে, যা নদীর তলদেশে জমা হয়। এর ফলে নদীর পানি সহজে চলাচল করতে পারে না এবং পলিমাটি জমতে জমতে একসময় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। ফলস্বরূপ নদীর পানি উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। হাওরে কৃষকের সোনালি ধান আগাম বন্যায় তলিয়ে যায়। তখন কৃষকের মুখে হাসি থাকে না, হতাশা ও কষ্টে তারা জীবন যাপন করে। অনেকে অন্যের জমি বর্গা এবং ঋণ নিয়ে প্রতিবছর চাষাবাদ করে। সাধারণ কৃষক তার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাধারণ মানুষ জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ শুধু গৃহহীনই হচ্ছে না, বরং তাদের জীবন-জীবিকাও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি সামাজিক ও আর্থিকভাবেও আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণেও অনিয়ম ও ধীরগতি লক্ষ করা যায়।
ধান কাটার ব্যস্ততা শেষে হাওরবাসীর জীবনে দেখা দেয় এক ভিন্ন দৃশ্যপট। ফজরের আজানের পর গ্রামের কয়েকজন যুবক ঐক্যবদ্ধভাবে ট্রলার নিয়ে হাওরে কোনাজাল পাতেন। তারপর সেই কোনাজালে ছোট-বড় মাছ ধরা পড়ে। সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে তাঁরা বাজারে যান। মাছ বিক্রি করেই তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যদিকে অনেকেই ছোট ডিঙি নৌকায় দুই-একজন মিলে একসঙ্গে বড়শি ও জাল নিয়ে খুব ভোরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বের হন। আবার কেউ কারেন্ট জাল দিয়েও মাছ শিকার করেন। মাছ ধরা শেষে নীড়ে ফিরে শুরু হয় মাছ রান্নার প্রস্তুতি। গরম ভাত আর তাজা মাছ হাওরের মানুষের যেন স্বস্তির খাবার।
অনেকে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে হাওরাঞ্চলে স্পিডবোট ও নৌকাচালক, মোটরবাইক ও অটোরিকশাচালক এবং ট্যুর গাইড হিসেবে অনেকেই কাজ করছেন। অনেকে অস্থায়ী দোকান ও রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেও জীবিকা চালাচ্ছেন। হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনমাতানো হলেও মানুষের জীবন খুবই কষ্টদায়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ। একেক সময় হাওর ভিন্ন রূপ ধারণ করে, ফলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বিভিন্ন সংকটের সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণত বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। বাংলায় একটি জনশ্রুতি আছে—‘বর্ষায় নাও শুকনায় পাও’, অর্থাৎ বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই আর শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। হাওরাঞ্চলের মানুষের অনেকেই গবাদিপশু পালন করে দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণ করে থাকে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে একশ্রেণির ডাকাত প্রতিনিয়ত গবাদিপশু চুরি করে নিয়ে যায়। চারদিকে বিশাল জলরাশি থাকার কারণে ডাকাতদের ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ছিনতাই-ডাকাতির পরিমাণ আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পর্যটকদের নৌকায় ডাকাতি করে তাদের মোবাইল ফোন, টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। ফলে পর্যটকের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং হাওরের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
হাওরের শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান রয়েছে ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়লেও ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক। কলেজগুলোতে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থা। শুধু মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ নিয়ে পাঠদান চলছে, নেই কোনো বিজ্ঞান বিভাগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাইব্রেরি, শিক্ষক, ল্যাব ও গবেষণার চরম সংকট রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখলে মনে হয় এগুলো মান্ধাতার আমলেই পড়ে রয়েছে। অথচ বর্তমান আন্তর্জাতিক যুগে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই।
আধুনিকতার যুগেও হাওরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত পিছিয়ে। চিকিৎসাকেন্দ্রে ডাক্তার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। সামান্য রোগেও শহরের চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটতে হয়, ফলে চিকিৎসা ব্যয় বিপুল পরিমাণে বেড়ে যায়। প্রতিবছর বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অনেকেই সঠিক সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না। হাওরাঞ্চলের মানুষের অনেকেই দরিদ্র, যাদের ব্যক্তিগত নৌকা কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যান, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত মারাত্মক।
বর্তমান বিশ্ব যখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে, তখনো হাওরাঞ্চলের মানুষ যেন আদিম কালেই পড়ে আছে। শহরাঞ্চলের মানুষ ফোরজি বা ফাইভজি ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও হাওরাঞ্চলে নেটওয়ার্ক পাওয়াই দুষ্কর। গাছের মগডালে উঠেও অনেক সময় নেটওয়ার্ক মেলে না।
আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক নিরক্ষর ও দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসেন। কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। জ্ঞানের অভাবে ফসলের জমিতে তাঁরা অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন, যার ফলে হাওরের মিঠা পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মারা যায়। এতে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
হাওর আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ। হাওর থেকে মাছ আহরণ করে অসংখ্য জেলে প্রতিনিয়ত জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমানে একশ্রেণির মানুষ উন্মুক্ত নদী-নালা, খাল-বিলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে। সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে তারা জেলেদের বঞ্চিত করছে। এর ফলে জেলে পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। হাওরাঞ্চলের আরেকটি অন্যতম সংকট হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা। বিশেষ করে গরমের সময়ে দৈনিক মাত্র ২-৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এর ফলে হাওরবাসীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাওরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই সমস্যাগুলোর সমাধান বা উত্তরণে করণীয় কী? পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সরকারকে নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। নদী খননের ফলে নদীর পানি ও বৃষ্টির পানি হাওরে জমে থাকবে না। নদীকে ঘিরেই আমাদের বৃহৎ অর্থনীতি গড়ে ওঠে। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। হাওরবাসীর জীবনমানের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
হাওরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির জন্য সড়ক এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যেন তা বর্ষাকালে পানিতে ডুবে না যায়। প্রয়োজনে উঁচু সড়ক বা উড়াল সেতু নির্মাণ করতে হবে। বর্ষাকালে নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নৌকার ব্যবস্থা করতে হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের পাহাড়ি ঢল এবং আগাম বন্যা সম্পর্কে সতর্কবার্তা বা পরামর্শ দিতে হবে। সরকারিভাবে বন্যসহনশীল ধানের বীজ বিতরণ করতে হবে এবং কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে, কারণ হাওরের অর্থনীতির সিংহভাগই আসে কৃষিখাত থেকে। কৃষিকাজের পাশাপাশি দুগ্ধ উৎপাদন ও মৎস্য খামার গড়ে তুলতে হবে। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত বাজারসুবিধা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে।
জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত করে দিতে হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং হাওরাঞ্চলকে বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। উঁচু স্থানে চিকিৎসাকেন্দ্র, আশ্রয় প্রকল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা প্রয়োজন। দুর্গম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসিক সুবিধা চালু করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে শিক্ষক, লাইব্রেরি, ল্যাব ও উপযুক্ত খেলার মাঠ থাকবে। চিকিৎসাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ডাক্তার, ওষুধ ও আধুনিক সরঞ্জাম থাকতে হবে। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা ও ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু করা জরুরি।
হাওরাঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-কমার্স সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধ ও নারীশিক্ষার সম্প্রসারণে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে। সর্বোপরি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
হাওরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন কোনো উপেক্ষিত বিষয় নয়, বরং এটি তাদের অধিকার। মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যে ঈশ্বরী পাটনী দেবী অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।” তিনি ধনসম্পদ না চেয়ে কেবল এই অকৃত্রিম প্রার্থনাটি করেছিলেন। অনুরূপভাবে হাওরবাসীও চায় সম্মান ও সুযোগের সমতা। তারা চায় তাদের সন্তানরাও যেন হাওর থেকে স্বপ্ন দেখতে পারে এবং তা পূরণ করতে পারে।
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাওরের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহার দেশকে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। হাওর হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল। শুকনো মৌসুমে কৃষি ও পশুপালন এবং বর্ষায় মৎস্য ও পর্যটন—পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিলে এই হাওরাঞ্চল জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।