মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

মেরাজুল ইসলাম:

প্রাচীনকাল থেকেই কোনো শাসককে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা তাঁর সফলতা ও ব্যর্থতার দিকগুলো পর্যালোচনা করি। ঠিক তেমনিভাবে, বর্তমান সরকারকেও কয়েক বছর পর মানুষ মূল্যায়ন করবে। জাতির জন্য এই সরকার কী কী উন্নয়ন সাধন করেছে, তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেই বিষয়গুলো।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের যেসব পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা সঠিক হলে এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালনা করা সম্ভব হলে, এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু আমি কেন বিশেষভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কথা বলছি? এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইন পাস হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলেই।

দ্বিতীয়ত, কাঠামোগত দিক থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্বতন্ত্র। কারণ, এটি দেশের প্রথম মাল্টি-ক্যাম্পাসভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়।

তৃতীয়ত, এটি একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। সাধারণত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। যেমন—বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও ভোলা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে সেগুলোতে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হবে।

কিন্তু এদিক থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর অধিভুক্ত কলেজগুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাস ও বিদ্যমান অবকাঠামো রয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক অবকাঠামো এখানে আগে থেকেই বিদ্যমান। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বর্তমান সরকারের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে এখনো নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। এটি বাংলাদেশের প্রথম মাল্টি-ক্যাম্পাসভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় কোন মডেলে এটি পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। শুরুতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ক্যাম্পাসকে আলাদা আলাদা অনুষদের অধীনে পরিচালনা করা হবে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি কলেজের স্বতন্ত্র কার্যক্রম ও পরিচয় বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এখানে বর্তমান সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ঠিক কোন মডেলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালনাপদ্ধতির ওপরই অনেকাংশে এর সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসম্মত কারিকুলাম প্রণয়ন। যুগোপযোগী ও মানসম্মত কারিকুলাম অনুসরণ করা হলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

পরিশেষে বলা যায়, সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের ওপর যেমন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির ওপরও নির্ভর করতে পারে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সামগ্রিক সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন।

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি