সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

তাড়াইলে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রের যন্ত্রণায় জনদুর্ভোগ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

মো. শরীফুল ইসলাম:

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পারিবারিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজনা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার ৪ নম্বর জাওয়ার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বিয়ে ও সুন্নতে খতনাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে এখানে প্রতিনিয়ত সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন যেখানে দুজন মানুষ সারা জীবনের জন্য একসঙ্গে নতুন জীবন গড়ার অঙ্গীকার করেন। জীবনের নতুন অধ্যায় পুণ্য কাজের মাধ্যমে শুরু হওয়া উচিত। অথচ অনেকেই নিজেদের বিয়েতে এমন উচ্ছলতায় মেতে ওঠেন যেখানে স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া আদায় করে সুন্দর ভবিষ্যতের প্রার্থনা করা বেশি প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে শব্দদূষণ আমাদের শরীর ও মনের ওপর নানা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন উচ্চ আওয়াজের মধ্যে থাকলে কানের ক্ষতি হয়ে বধিরতার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত শব্দ শরীরকে দ্রুত ক্লান্ত করে মানসিক চাপ বাড়ায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ নষ্ট হয় উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়। শব্দদূষণে মানুষ ছাড়াও পশু ও পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বাদ্যযন্ত্রের এই যন্ত্রণায় প্রতিবেশীরা প্রতিনিয়ত অতিষ্ঠ জীবনযাপন করছেন।

পার্শ্ববর্তী পূর্ব জাওয়ার ছনাটি ইছাপশর বোঁরগাঁও ও বেলংকার মতো গ্রামগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থাকায় সেখানে গান বাজনা তেমন চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত যেন না ঘটে সে জন্য ওই গ্রাম বা পাড়াগুলোতে গান বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব গ্রামে কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে জরিমানাসহ শাস্তির বিধানও রয়েছে। অথচ পশ্চিম পাড়ায় হরহামেশাই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিভিন্ন উৎসব উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। সচেতন নাগরিক ও মসজিদের ইমাম বারবার বোঝানোর পরও অনেকেই কর্ণপাত করছেন না।

জনদুর্ভোগ কমাতে এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের উচ্চ শব্দের গান বাজনা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি দ্রুত নিরসন এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিতে তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।