এআই এর যুগে মানুষের সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ

মায়েদা ইসলাম মুন:
লেখনী একটি শিল্প। লেখার মাধ্যমে যে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তা আর কোনো কিছুতে নেই। একটা সময় সৃজনশীল কোনো বিষয় মানুষের চিন্তা – ভাবনা , অনুভূতি দিয়ে সৃষ্টি হত। একটি ছোট গল্প কিংবা উপন্যাস তৈরি হত মানুষের কল্পনা থেকে, স্মৃতি থেকে। কবিতা লিপিবদ্ধ হত না জানা কতশত কথা থেকে। আজকের এআই সে গল্প বা কবিতা কয়েক সেকেন্ডেই লিখতে পারে।
মানুষের সৃজনশীলতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুভূতি। একজন মানুষ আনন্দ, কষ্ট, ভালোবাসা, হারানোর বেদনা, ভয়, আশা কিংবা নিজের জীবনের কোনো অভিজ্ঞতা থেকে একটি গল্প বা কবিতা লিখতে পারে। একটি গান হয়তো কারও শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, আবার একটি কবিতা হয়তো কোনো ব্যক্তিগত কষ্ট থেকে জন্ম নেয়। এগুলো মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত।
এআই অনেক সুন্দরভাবে মানুষের অনুভূতি নিয়ে লিখতে পারে, কিন্তু সে নিজে আনন্দ পায় না, কষ্ট পায় না, কাউকে হারানোর শূন্যতা অনুভব করে না। তার কোনো নিজস্ব উপলব্ধি নেই, নেই কোনো রাত জাগা সময়। এআই অনুভূতির প্রকাশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা বুঝতে পারে না।
এখানেই মানুষের সৃজনশীলতার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। একজন লেখক তার নিজের জীবনের কোনো ছোট ঘটনা থেকেও এমন একটি গল্প তৈরি করতে পারেন, যার সঙ্গে অন্য মানুষ নিজের জীবনের মিল খুঁজে পায়। একজন শিল্পী একটি ছবিতে এমন একটি অনুভূতি প্রকাশ করেন, যার পেছনে তার বহু বছরের অভিজ্ঞতা থাকে। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিই সৃষ্টিকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে। যেটা এআই এর দ্বারা এতটা সহজ নয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে এআই মানুষের সৃজনশীলতার জন্য শুধু হুমকি। বরং এআই মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক মাধ্যম হতে পারে। মানুষ তার কল্পনা, অনুভূতি ও মূল চিন্তা দেবে, আর এআই সেই ধারণাকে সাজাতে পারে বা দ্রুত বাস্তব রূপ দিতে সাহায্য করতে পারে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যদি মানুষ নিজের চিন্তা না করে সবসময় এআই এর তৈরি উত্তর গ্রহণ করতে থাকে, তাহলে নিজের গুণ, কল্পনা ও চিন্তার চর্চা ও বিস্তার কমে যেতে পারে। তাই এআই এর ওপর নির্ভর না করে এআই কে নিজের সৃজনশীলতার সহযাত্রী হিসেবে ব্যবহার করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে হয়তো সৃজনশীলতার সবচেয়ে বড় শক্তি হবে মানুষের অনুভূতি এবং এআই এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়। কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে এআই যতই উন্নত হোক, মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও কল্পনার নিজস্বতা আলাদা থাকবে। এআই হয়তো আমাদের হয়ে লিখতে পারবে, কিন্তু আমরা কেন লিখি, কী বলতে চাই এবং সৃষ্টির অর্থ কী—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের খুঁজে নিতে হবে।
শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা