ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের আড়ালে অনলাইন জুয়া, চরম ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

মো. রিমেল:
বর্তমানে শিক্ষার্থীসহ দেশের তরুণ তরুণীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফেসবুক, গুগল ওয়েব ব্রাউজার ও ইউটিউব ব্যবহার করে থাকেন। নতুন কারিকুলাম, নানা তথ্য আহরণ এবং গ্লোবাল ভিলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য এসব মাধ্যমের ব্যবহার এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এর মাঝেই উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইট। তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক তরুণ তরুণী ও শিক্ষার্থী।
ব্রাউজার ব্যবহার করার সময় অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপন তরুণদের আকর্ষণ করছে। কেউ হয়তো প্রয়োজনীয় পিডিএফ ডাউনলোড করার জন্য কোনো লিংকে প্রবেশ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জুয়ার সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম দেখিয়ে দেওয়া হলো। কৌতূহল বা লোভের ফাঁদে পড়ে অনেকেই সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলছেন।
তরুণ প্রজন্মই কেন মূল লক্ষ্য
শিক্ষার্থী ও তরুণ তরুণীরাই কেন এসব সাইটের মূল লক্ষ্য? আমাদের দেশে পড়াশোনা চলাকালীন বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বেকার থাকেন। ফলে টাকা আয় করার একটি ইচ্ছা তাঁদের মধ্যে থেকেই যায়। এই মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে জুয়ার সাইটগুলো আকর্ষণীয় ও লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রলুব্ধ করছে। বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খোলা এবং পাঁচ শ টাকা পর্যন্ত ফ্রি বোনাস দিয়ে তাদের জুয়া খেলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক এজেন্টও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতের জন্য যার ফলাফল হবে ভয়াবহ।
অনেক মানুষ টি ২০ বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন খেলার লাইভ সম্প্রচার সামাজিক মাধ্যম বা ওয়েবসাইটে দেখেন। লাইভ চলাকালীন বিভিন্ন জুয়ার সাইট ওভারের ফাঁকে ফাঁকে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। বারবার এসব চটকদার বিজ্ঞাপন দেখার কারণে সাধারণ দর্শকদের মনেও এসব সাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার ইচ্ছা জেগে ওঠে।
পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়
এসব জুয়ার সাইটের প্রচার ও প্রসার এখনই বন্ধ করতে হবে। তা না হলে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিবারে নেমে আসবে অশান্তি। পাশাপাশি শত শত কোটি টাকা পাচার হয়ে দেশের অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জুয়ার টাকার জন্য খুন, ছিনতাই এমনকি ভিটেমাটি বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটছে।
প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
তাই এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার সময়। এসব জুয়ার সাইটের প্রচার ও প্রসার বন্ধ করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও তাঁদের সন্তানদের হাতখরচ দেওয়ার ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় টাকা খরচ করছে এবং অনলাইনে কী ধরনের সাইট ব্যবহার করছে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সামাজিক সচেতনতা ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপই পারে তরুণ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা আসক্তি থেকে রক্ষা করতে।
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।