বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

মানব সভ্যতায় ভালোবাসার জয়গান গাইবো

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

ভালোবাসা কেন সর্বক্ষণ দুঃখের স্মৃতি বয়ে আনে? অনেকের কাছেই এটি অজানা। আগে কিংবা পরে এই ভালোবাসা অনেক সময়ই বেদনায় রূপ নেয়, যা অত্যন্ত দুর্বিষহ ও যন্ত্রণাদায়ক। মানুষকে ভালোবেসে ধোঁকা পেয়ে বেদনায় মন কাতরায়, বিষয়টা শুধু এমন নয়। মানুষ কেবল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে, তা-ও নয়। ভালোবাসার জন্য যে সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা মনের প্রয়োজন, তা আজ পরিত্যক্ত স্থানের মতো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় নিমজ্জিত। সেখানে নেই ভালোবাসার ন্যূনতম মমত্ববোধ, আবেগ বা আঁকড়ে বেঁচে থাকার আকুল আকুতি। শুধু চাওয়া-পাওয়ার মাঝেই আজকালকার ভালোবাসা টিকে আছে, যা নিন্দাজনক ও পরিহারযোগ্য। আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি যেখানে মন, আবেগ, স্মৃতি কিংবা সম্পর্কের কোনো মূল্য নেই বললেই চলে। লোকদেখানো ভালোবাসা আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে পরিত্যাগ করে অন্য পথে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়াই যেন আজকালকার মূলমন্ত্র।

মানবজাতির প্রতি এখন আর আমাদের মন কাঁদে না। ‘নিজে ভালো থাকলেই হলো, অন্যের ব্যাপারে আমার কী আসে যায়?’—এই চিন্তাধারার কারণে মানুষ অনেক সময় মনুষ্যত্বহীন পশুর ন্যায় আচরণ করে। নিজেকে খুব বড় করে দেখার এই প্রবৃত্তি নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয়। ভালোবাসা যেন নিছক ছেলেখেলা; এই এল, আবার এই গেল! অর্থাৎ, একবার ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলা চা-কফির কাপ কিংবা প্লাস্টিকের বোতলের মতো ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম, আর সেদিকে ফিরে তাকানোর প্রয়োজনও বোধ করলাম না।

আমরা কত কিছুরই প্রেমে পড়ি—কুকুর, বিড়াল, পশুপাখিসহ কত জিনিসেরই! কিন্তু মানুষের যেন কোনো দাম নেই। আদর করে পোষা প্রাণীকে যে যত্নআত্তি করা হয়, তার ছিটেফোঁটাও যদি মানুষের জন্য করা হতো, তবে সমাজে এত অশান্তি কিংবা হানাহানির প্রয়োজন হতো না। আমরা পড়ালেখা করে বিভিন্ন জিনিস শিখছি, শত-সহস্র তথ্য জানছি। কিন্তু মানুষের মনের আবেগ, ভালোবাসা বা দুঃখ কতটুকু উপলব্ধি করতে পারছি? শুধু ‘নিজের নিজের’ করতে করতে জীবন শেষ করে অনন্তকালের দিকে পাড়ি জমাচ্ছি। কিন্তু এই ছোট জীবনে একবারও কি মানুষের ভালোবাসার সঠিক মূল্য দিতে পারছি? পারছি না, কারণ আমাদের সমাজব্যবস্থা ও নীতিগত অবক্ষয় আজ কাউকেই বিশ্বাস করে ভালোবাসার মন্ত্রণা দিচ্ছে না।

যে একবার ঠকেছে, সে ভেবে নেয় সবার মানসিকতাই বুঝি একরকম। তাই সে অন্যকেও ভালোবাসার আসল দাম, এর পরিমাপ বা গভীরতা উপলব্ধি করতে দেয় না। শুধু জৈবিক চাহিদাই যে ভালোবাসা, তা কিন্তু নয়। ভালোবাসায় রং আছে, বেদনা আছে, আছে খানিক অভিমান, ঝগড়া, বিশ্বাস ও মতের অমিল। সবকিছু মিলিয়েই পূর্ণতা পায় ভালোবাসা। এসবের বৈতরণি পার হতে না পারলে ভালোবাসা হয়ে যায় পানসে। আর এর জন্য দায়ী করা হয় অপর প্রান্তের মানুষগুলোকে। আদৌ কি তারা এসবের জন্য দায়ী? কুমন্ত্রণাবিহীন সজাগ দৃষ্টিতে, বিশ্বাস ও মনের প্রতি যত্ন নিয়ে এগোলে ভালোবাসা হয় সুখ ও শান্তির, যা কখনো ফুরোবার নয়।

ভালোবাসতে হলে কষ্ট সহ্য করে, নিজেকে শক্তপোক্ত করে ভালোবাসার মানুষকে বুঝিয়ে দিতে হয়—’আমি শুধু তোমাদেরই; জীবনে শত কষ্ট এলেও আমি কখনোই তোমাদের হাত ছাড়ব না।’ এই বিশ্বাসটুকু অর্জন করে নিতে পারলেই ভালোবাসা অনন্তকালের জন্য অমরত্ব লাভ করে। সামান্য কষ্ট সহ্য করতে না পেরে যে ভালোবাসা আমরা দেখাই, তা ব্যর্থতার গুণগান ছাড়া অন্য কোনো সুখের গান গাইবে না। আসুন, নিজেকে ও অন্যদের জানি, বুঝি এবং তাদের সময় দিই। এরপর আমরা সবাই মিলে একসাথে একই সুরে মানব সভ্যতায় ভালোবাসার জয়গান গাইব।

লেখক পরিচিতি: ইকরাম আকাশ, শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।