অমর কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ

জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে দুজন বিভূতিভূষণ রয়েছেন। একজন বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকজন মুখোপাধ্যায়। আজ অমর কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর বিহারের ঘাটশিলায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র ৫৬ বছরের জীবনে তাঁর লেখালেখির ব্যাপ্তি ছিল ২৮ বছর। শিক্ষকতার মাধ্যমেই তাঁর পেশাগত জীবনে প্রবেশ এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এই পেশাতেই যুক্ত ছিলেন।
এই ঔপন্যাসিকের অনন্য কীর্তি পথের পাঁচালী। এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। পরবর্তী সময়ে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় এটি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে উপন্যাসের খ্যাতির পরিধি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু পথের পাঁচালী নয় তিনি অপরাজিত, আরণ্যক ও ইছামতীর মতো অসামান্য সব উপন্যাসের রচয়িতা। সত্যজিৎ রায় তাঁর অপরাজিত এবং অশনি সংকেত উপন্যাস দুটি নিয়েও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর রচনাসম্ভারের মধ্যে রয়েছে ১৫টি উপন্যাস, ৭টি কিশোর উপন্যাস এবং দুই শতের বেশি ছোটগল্প। এসবের বাইরে ভ্রমণকাহিনি, দিনলিপি, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও ব্যাকরণ বইও তিনি লিখেছেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তেইশ বছর বয়সে তিনি প্রথম বিয়ে করেন কিন্তু বিয়ের বছর খানেক পরই তাঁর স্ত্রী গৌরী মারা যান। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর দীর্ঘ ২২ বছর পর ৪৬ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মেয়ে রমা দেবীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন এমন প্রকৃতি পাগল সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে বিরল। প্রকৃতিকে চোখে দেখে সবারই ভালো লাগে কিন্তু তাকে ভালোবেসে তার গভীরে অবগাহন করা অন্য বিষয়। এই ভালোবাসার টানেই বিভূতিভূষণকে বছরে কয়েক মাস অরণ্যবাস করতে হতো এবং বাকি কয়েক মাস ইছামতী নদীর কূলে পল্লির কোলে কাটাতে হতো। তাঁর জীবনের যুগল মেরু ছিল অরণ্য ও দক্ষিণায়ন। শহরে থাকলেও তিনি কখনো শহুরে ছিলেন না বা হতে চাননি। নাগরিক সভ্যতা তাঁকে বশ করতে পারেনি এবং তাঁর পোশাকে আশাকে নাগরিকতার লেশ ছিল না। অন্নদাশঙ্কর রায়ের বর্ণনায় বৈঠকখানায় বিভূতিভূষণ ছিলেন একেবারেই বেমানান।