আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস আজ

আজ ২১ সেপ্টেম্বর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস। যুদ্ধ, সংঘাত ও হানাহানিমুক্ত একটি মানবিক পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অহিংসা ছড়িয়ে দেওয়া, বৈষম্য দূর করা এবং সব ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানানোই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সবার জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। এই দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ঐতিহাসিক শান্তি ঘণ্টা বাজানো হয়। জাপানের জনগণের দেওয়া অনন্য এই ঘণ্টাটি বাজিয়ে বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে যুদ্ধের পরিণতি কেবল ধ্বংস ও বিপর্যয় বয়ে আনে, একমাত্র শান্তিই পারে মানবজাতিকে রক্ষা করতে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই দিবসের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র অস্থিরতা, ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সংকটে লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন। সংঘাতের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে কোটি কোটি নিরীহ মানুষ, যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে নারী ও শিশুরা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দারিদ্র্য ও মানবাধিকারের সংকটও বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শান্তি মানে কেবল অস্ত্রের লড়াই বন্ধ থাকা নয়, বরং একটি সমাজে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হওয়াই শান্তির প্রকৃত ভিত্তি। আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হোক এবং সংঘাতের বদলে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হোক, আজকের দিনে এটিই শান্তিকামী মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।