রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: ছাত্রীসহ তিন আসামির বিচার শুরু

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিংশতিতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম রোববার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বলেন, “আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখা হয়েছে।”

অভিযুক্তরা হলেন—জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন। শুনানির আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আল মামুন রাসেল, জহির হোসেন খান, এম রাশেদুজ্জামান আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন।

পরে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এসময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর খুন হন জোবায়েদ। সেদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ওই ছাত্রীর বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

দুই দিন পর জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় মামলা করেন। মামলার আট মাস পর গত ৩০ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই আশরাফ হোসেন।

বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গেল ১২ অগাস্ট মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর তিন দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হয়। গত ২৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দেয় আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকালে তিনি বংশালের নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়ানোর জন্য যান। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বলেন, ‘কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে’।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কামরুল হাসান সন্ধ্যা ৭টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকতকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ তথ্য দেন। সৈকত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান তারা।