প্রতিদিনের কাজে ৫৫ শতাংশ কর্মী এআই ব্যবহার করে : মেটলাইফের গবেষণা

দেশের ৫৫ শতাংশ কর্মী প্রতিদিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন। তাদের মধ্যে ৯১ শতাংশ মনে করেন, এ প্রযুক্তি কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন নিয়োগদাতারা।
মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে রোববার এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার, হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই কাজের চাপ কমাতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, মানসিক ক্লান্তি কমাতে এবং আরও অর্থবহ কাজে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। তবে মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন, কর্মীরা সহজেই এআই গ্রহণ করছেন।
গবেষণায় আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যায় বলে জানিয়েছেন ২০২৫ সালে ৫৬ শতাংশ কর্মী। ২০২৬ সালে এ হার বেড়ে ৭২ শতাংশ হয়েছে। কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োগদাতাদেরও রয়েছে বলে মনে করেন এমন কর্মীর হার ৬৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮১ শতাংশ হয়েছে। অবসরজীবনের জন্য সঞ্চয়ে সহায়তা করাও নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৭ শতাংশ।
বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা খরচের সময় নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন ৭২ শতাংশ কর্মী। অন্যদিকে, চাকরি নিয়ে কর্মীদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮৩ শতাংশ হয়েছে।
কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় বীমাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার চাহিদাও বাড়ছে। ২০২৬ সালের গবেষণায় ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, বীমা ও সুস্থতাসংক্রান্ত সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ।
অবসরজীবনের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাঁদের অবসরজীবনের কোনো পরিকল্পনা নেই, তাঁদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮১ শতাংশ হয়েছে। এ বিষয়ে সঞ্চয় ও সঞ্চিত অর্থ থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের সহায়তা চান কর্মীরা।
নিজেদের প্রয়োজন ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মানানসই সুযোগ-সুবিধা পেতে আগ্রহী কর্মীর হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৮৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা। ২০২৫ সালে এ হার ছিল ৭৮ শতাংশ। গত এক বছরে প্রায় অর্ধেক নিয়োগদাতা কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র শুধু নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়। কাজের জগৎ বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেন তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়বারের মতো পরিচালিত আমাদের এ গবেষণায় বাংলাদেশের নিয়োগদাতা ও কর্মী, উভয়ের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের পরিবর্তিত চাহিদা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, আর্থিক নিরাপত্তা, সুস্থতা ও প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাকে একসঙ্গে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি সম্পৃক্ত, সংকট মোকাবিলায় সক্ষম এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে সহায়তা করা সম্ভব।
গবেষণায় বিভিন্ন খাতের মোট ৭০৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং ১২৬ জন নিয়োগদাতা। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য, টেলিযোগাযোগ, রিটেইল, ম্যানুফ্যাকচারিং, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।