মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

ছাত্রনেতা থেকে রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে কিছু ব্যক্তিত্ব তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্বের ধরন ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার রাজনীতির হাতেখড়ি হয় ষাটের দশকে উত্তাল ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে কেটেছে তার জীবন। তিনি শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পর তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।
​মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ, তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন। মির্জা রুহুল আমিন এলাকার মানুষের কাছে চখা মিয়া নামে অধিক পরিচিত। তার মায়ের নাম মির্জা ফাতেমা আমিন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন একজন আইনজীবী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার স্ত্রী সম্বন্ধে বলেন, “আমার সহধর্মিনী আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” সাংসারিক জীবনে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

​মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন ষাটের দশকে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সূচনা হয়েছে দেশের একটি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

​তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে। শিক্ষকতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেন।

​তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের মাধ্যমে। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে তার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। নব্বই দশকের শুরুতে তিনি বিএনপিতে যোগদান করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেন এবং ১৯৯২ সালের ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।তিনি মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি বিএনপির সরকারের প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চলে আসেন। পরে তিনি ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সাল থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন এবং তিনি স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

​তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ১২ বারে প্রায় সাড়ে তিন বছর জেল খেটেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি বিএনপি দলটিকে বহুবার ভাঙার হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তৃণমূলের কর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। তিনি সুখে দুখে সবসময় কর্মীদের পাশে ছিলেন। তাকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বহুবার কর্মীদের জন্য কান্না করতেও দেখা গেছে। কর্মীদের সাথে এত ভালো সম্পর্ক অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার মধ্যে দেখা যায় না। তার সম্বন্ধে একটি বিশেষণ খুব বেশি করা হয় যে, তিনি বাংলাদেশের অন্যতম ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। আজ তিনি তার যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা পেয়েছেন। গণমানুষের নেতা থেকে তিনি এখন দেশের প্রধান ব্যক্তি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।