উত্তরায় ন্যূনতম বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, যানজটে নাকাল নগরবাসী

ন্যূনতম বেতন ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকায় আজও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। টানা চার দিনের এই কর্মসূচির ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার পর রাস্তায় যান চলাচলে কিছুটা গতি ফেরে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চতুর্থ দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন উত্তরায় অবস্থিত একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, বর্তমান বেতন ও ভাতা দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বেতন বাড়ানোর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
সড়ক অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকা। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। আটকে পড়া বাসের এক যাত্রী তানজিদ শুভ্র বলেন, ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছি কিন্তু এক ঘণ্টা যাবৎ যানজটে আটকা পড়ে আছি। যানজটের তীব্রতা বোঝাতে গণমাধ্যমকর্মী এসআই রাজ ফেসবুকে একটি ছবি দিয়ে সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব ওই রাস্তাটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার সকাল থেকেও বিমানবন্দর ও জসীমউদ্দীন এলাকার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন কয়েক শ পোশাকশ্রমিক। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়।
গতকালের কর্মসূচি সম্পর্কে বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সকাল থেকে বিমানবন্দর ও জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গতকালই আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছিলেন যে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবারও তাঁরা পুনরায় রাস্তায় নামবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবারও তাঁদের এই আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।