বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জাতীয় সংসদে ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’: জলবায়ু নীতি নির্ধারণে তরুণদের দৃঢ় অঙ্গীকার

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান ১ শতাংশেরও কম হলেও ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের মতো চরম জলবায়ু সংকটের প্রথম শিকার হচ্ছে এ দেশের প্রান্তিক মানুষ। আসন্ন কপ৩১-এর (COP31) প্রস্তুতি হিসেবে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দেশের তরুণ প্রজন্মকে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হলো ‘এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬’-এর প্রথম দিনের সমাপনী অনুষ্ঠান।

​এলকয় বাংলাদেশের সহযোগী এবং প্রথম দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ইউক্যান), এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও ব্রাইটার্স-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জের হাওর, উপকূলীয় দ্বীপ, চর ও জলবায়ু অভিবাসী এলাকাসহ দেশের ৯টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

​সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহরাত আদিব চৌধুরী এমপি। তরুণদের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কেবল গতানুগতিক আলোচনা নয়, বরং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। তিনি যুবসমাজকে বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশের জোরালো প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোহাম্মদ আলী এবং ব্রাইটার্স-এর চেয়ার ও এলকয় বাংলাদেশ ২০২৬-এর কন্টাক্ট পয়েন্ট ফারিহা সুলতানা অমি। প্রথম দিনের এই সমাপনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ইউক্যান-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস।

​সম্মেলনে তরুণদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা, অর্থায়নে স্থানীয় যুব ও কমিউনিটি সংগঠনের সরাসরি প্রবেশাধিকার তৈরি করা এবং কার্যকর ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল গঠন। এ ছাড়া জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির শিকার মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন ও জীবিকা নিশ্চিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে বৈশ্বিক আইনি কাঠামো তৈরি এবং জলবায়ু শাসন কাঠামোতে তরুণদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

​উল্লেখ্য, ব্রাইটার্স ফাউন্ডেশনের হোস্টিংয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এই এলকয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত তরুণদের এই সফল উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের জলবায়ু নীতি গঠনে এবং আন্তর্জাতিক দরবারে বাংলাদেশের তরুণদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।