সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

কক্সবাজারের পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ কক্সবাজারে উঠানামায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ পরিস্থিতি বদলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে নির্মিত নতুন আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে নতুন টার্মিনালে বিমান উঠানামা শুরু হয়েছে।

টার্মিনালের ছাদ ঝিনুক আকৃতির অবয়বে নির্মাণ করা হয়েছে। ওপরে স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। সাগরঘেঁষা কক্সবাজার বিমানবন্দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নকশা করা হয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের। এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ফলে দীর্ঘদিনের যাত্রী ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বাসস’কে বলেন, পুরনো টার্মিনালে ফ্লাইট প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ কখনো বা সাড়ে ৫শ’ যাত্রীও হয়ে যেত। ফলে টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতার বাইরে বেশ চাপ তৈরি হতো। নতুন টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পরে হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন টার্মিনালে যাত্রীরা বড় পরিসরের জায়গা, পর্যাপ্ত কাউন্টার ও বসার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা রয়েছে কি-না, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেটিও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালটিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ৭টি স্ক্যানার, মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের আলাদা সুবিধা। যাত্রী চলাচলের জন্য রয়েছে ৪টি এসকেলেটর ও ৬টি লিফট। পাশাপাশি রয়েছে বোর্ডিং ব্রিজ ও আধুনিক লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা। এর আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, নতুন টার্মিনালে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। এরইমধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরাও।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, নতুন টার্মিনালে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ইউএস-বাংলা নয়, সব এয়ারলাইন্সের জন্যই ইতিবাচক। এরফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও ভালো সেবা ও সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন করা হলে তা এয়ারলাইন্স ও যাত্রী উভয়ের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ঢাকা থেকে আসা যাত্রী রাকিব হাসান বাসস’কে বলেন, আগে কক্সবাজার বিমানবন্দরের টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যেত না। নতুন টার্মিনালটি অনেক বড় ও সুন্দর। এখানে যাত্রীদের চলাচল ও বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে হচ্ছে।
আরেক যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, নতুন টার্মিনালে ঢুকেই আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তি অনুভব করছি। চেক-ইন কাউন্টার, বসার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধা সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে কক্সবাজারের যাত্রীদের জন্য এটি আরও বড় সুবিধা হবে।

এদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত এ পর্যটন এলাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা এখনও খুব কম। পুরনো বিমানবন্দরের রানওয়ে ছোট হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের উড়োজাহাজ কক্সবাজারে চলাচল করতে পারতো না। ফলে বিদেশি পর্যটকদের ঢাকায় অবস্থান করে এরপর কক্সবাজার আসতে হতো। এ পরিস্থিতি বদলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

বেবিচক জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পুরনো রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ হাজার ফুট। পরে আরও ৩ হাজার ফুট বাড়িয়ে তা ৯ হাজার ফুট করা হয়। বর্তমানে এ রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭শ’ ফুট।