২০৩১ সালের মধ্যে ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য মানুষ পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে জীবনমুখী ও কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল অর্জন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিতকরণ এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এই উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সাধারণ অক্ষরজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে অবশিষ্ট নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রাক বৃত্তিমূলক শিক্ষার ছায়াতলে আনাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনদক্ষতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে আমরা কেবল বর্ণমালা শেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রায়োগিক বা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করতে চাই। এটি নিশ্চিত করা গেলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
বয়স্ক ও কর্মক্ষম মানুষকে প্রাক বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনতে অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম বা আলফা শীর্ষক একটি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান অর্থাৎ প্রত্যেকে একজনকে শিক্ষাদান মডেলের ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির কনসেপ্ট নোট ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুসারে প্রথম ধাপে ৪০টি জেলার নির্বাচিত ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে এক বছরের একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হবে। এই কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে মূল প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী পুরুষকে সরাসরি দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বলেন সরকারের পরিকল্পনা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখানো নয় বরং শিক্ষার সুযোগবঞ্চিতদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বুঝে কারিগরি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই যেন প্রশিক্ষণ শেষেই তারা জীবিকায়নে যুক্ত হতে পারে। তিনি জানান বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি ৫৮টি জেলায় চার হাজার ৩১২ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত ১১টি ট্রেডে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থীর সরাসরি চাকরি বা স্বকর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই সফলতার মডেল অনুসরণ করেই প্রস্তাবিত আলফা কর্মসূচিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতাই নয় বরং বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে অল্টারনেটিভ লার্নিং অপরচুনিটি ফর আউট অব স্কুল চিলড্রেন বা আলো নামের আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪টি জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ জন শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ জন কিশোর কিশোরীকে প্রাক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে কক্সবাজারে সফল হওয়া স্কিলফো পাইলট প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় এক লাখ তরুণ তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে স্কিলফো প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উপপরিচালক হিরামন কুমার বিশ্বাস জানান আলো স্কিলফো এবং আলফার মতো সমন্বিত কর্মসূচিগুলো মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনেকটাই সুগম হবে।