কাঠমান্ডুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বক্তব্য

জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের জাতীয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেরণার উৎস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের সূচনা করেছে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করার নয়; বরং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ও স্মৃতি অমর রাখা পবিত্র দায়িত্ব।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অধ্যাপক আমানুল্লাহর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ড. আমান ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম থিংক-ট্যাংক ও দূরদর্শী নেতা, যাঁর সাহসী নেতৃত্ব ও নির্ভীক দিকনির্দেশনা সাধারণ মানুষকে রাজপথে নেমে আসতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। গণমাধ্যমের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও তাঁর অকুতোভয় ও স্পষ্টভাষী ভূমিকা জাতির স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, এই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না, বরং বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প। শহীদ পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে আট লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া অধিভুক্ত কলেজের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫’ চালুর পাশাপাশি মূল ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং অধিভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা শহীদদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
আন্দোলনের সর্বজনীনতার কথা উল্লেখ করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল করতে পারস্পরিক মতপার্থক্য ভুলে সর্বস্তরে সমতা প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সরকারের শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করতে সনাতন কারিকুলাম সংস্কারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষাগত দক্ষতা, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক শর্ট ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।