শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

শব্দ আর নৈঃশব্দ্যের জাদুকর আরজে শান্ত

তানজিদ শুভ্র

কেউ তাকে চেনেন মধ্যরাতের ইথারে ভেসে আসা ভরাট কণ্ঠস্বর হিসেবে, আবার কেউ তাকে খুঁজে পান বইয়ের পাতার ভাঁজে—রহস্য আর আবেগের জাদুকর হিসেবে। তিনি মশিউর রহমান শান্ত। যদিও ‘আরজে শান্ত’ নামেই তার পরিচিতি আকাশচুম্বী, কিন্তু এই এক নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন লেখক, উদ্যোক্তা এবং স্বপ্নবাজ তরুণের গল্প।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গণমাধ্যমে কাজ করছেন শান্ত। বেসরকারি টেলিভিশনের পর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও, অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন বহু আগেই। এবিসি রেডিও, ঢাকা এফ এম থেকে শুরু করে রেডিও ধ্বনি—বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রায় সব স্টেশনে তার কণ্ঠস্বর শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। ‘বি পজেটিভ’, ‘পুলিশ ডায়েরী’, ‘ধোকা’ কিংবা ‘হোয়াইট কলার’-এর মতো শ্রোতাপ্রিয় শো-গুলোর মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন সমকালীন তরুণদের আইকন। উপস্থাপনা, ভয়েস ওভার কিংবা সংবাদ পাঠ—শব্দের সব মাধ্যমেই তার বিচরণ সাবলীল।

তবে মাইক্রোফোনের সীমানা পেরিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন দক্ষ কথাশিল্পী হিসেবে। মশিউর রহমান শান্ত মনেপ্রাণে একজন গল্পকার। তার লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল ফিচার আর তারকাদের সাক্ষাৎকার দিয়ে। এরপর একে একে মলাটবন্দী করেছেন অসংখ্য বই। ‘অভিমানের শহর’, ‘তিন বসন্ত’, ‘ভোরের রং কালো’, ‘ট্রেন টু কাশ্মীর’ কিংবা অতিপ্রাকৃত থ্রিলার ‘অন্ধকার’—প্রতিটি বইয়েই তিনি পাঠককে নিয়ে গেছেন এক ভিন্ন জগতে। ২০২৬ সালে এসে তার ঝুলিতে জমা হয়েছে দুই ডজনেরও বেশি বই, যার প্রতিটিই পাঠকের ভালোবাসায় সিক্ত। সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন নতুন উপন্যাস “দৃশ্যপুর” প্রকাশের।

শুধু নিজের ক্যারিয়ার নয়, শান্ত কাজ করছেন অন্যদের স্বপ্ন নিয়েও। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের প্রথম স্টোরি টেলিং প্ল্যাটফর্ম ‘টার্নিং টকস বাংলাদেশ’। এছাড়াও ‘ভয়েজ ফ্যাক্টরি বাংলাদেশ’-এর সিইও হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভয়েস আর্টিস্টদের একটি নতুন প্রজন্ম তৈরিতে। তরুণদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘আমাদের আনন্দ আশ্রম’।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সম্মানিত হয়েছেন। নেপালের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে ‘গ্লোবাল ইয়ুথ লিডার অ্যাওয়ার্ড’ (২০২১) এবং থাইল্যান্ড থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ (২০২৩) অর্জন তার মুকুটে যুক্ত করেছে সাফল্যের নতুন পালক।

এতসব অর্জন, ব্যস্ততা আর জনপ্রিয়তার মাঝেও মশিউর রহমান শান্ত দিনশেষে গল্পের মানুষ। তিনি ছুটে চলেন জীবনের নানা বাঁকে ছড়িয়ে থাকা গল্পের সন্ধানে। তার ভাষায়, “জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি মানুষের গল্প বলে যেতে চাই।” শব্দে কিংবা নিস্তব্ধতায়—মশিউর রহমান শান্ত এভাবেই নিজের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত।