হারানোর মহাকাব্য

হারানোর মহাকাব্য
ফাহিমা আক্তার
তোমার ওই নয়নযুগল
আমার অস্তিত্বের অলিন্দে গোপনে বেড়ে ওঠা এক নৈঃশব্দিক বিপর্যয়;
যার মায়ায় আমি বারবার নিজেকেই হারাই,
অথচ হারানোর নাম দিই প্রেম।
পৃথিবী তোমায় ছিনিয়ে নিতে ব্যতিব্যস্ত,
আমি একা লড়াইয়ে পর্যুদস্ত।
তুমি ক্রমশ দূরে যাও,
আমি নীরবে ব্যবধান গুনি।
তোমায় হারানোর শঙ্কায়
নিজেকেই হারিয়ে ফেলি।
তোমায় হারানোর আশঙ্কায়
আমি অস্তিত্বের সংজ্ঞা ভুলে গেছি।
বিশ্বাস করো—
তুমিহীন শূন্যতার অতল গহ্বর ব্যতীত
পৃথিবীর সমস্ত বিষাদ
আমি নির্দ্বিধায় বরণ করে নিতে পারি।
এই বিষণ্ন নগরীর কোনো এক জ্যোৎস্নাস্নাত প্রহরে
তোমার বক্ষলগ্ন হয়ে চাঁদের মায়াবী শোভা অবলোকনের অধিকার
আমার ভাগ্যে আদৌ লিখিত আছে কি?
কখনো কি তোমার করতলদ্বয় আঁকড়ে ধরে
হৃদয়ের সমস্ত অব্যক্ত অনুভূতি উজাড় করে
বলতে পারব—তুমিই আমার আরাধ্য ভালোবাসা!
জানি না, আদৌ জানি না।
আমার কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তির অন্তরালে
যে বিষাদ গোপনে ডালপালা মেলে,
তার প্রতিটি শিরায় শিরায় কেবল তোমায় হারানোর আশঙ্কা।
অথচ কী নিদারুণ বৈপরীত্য!
সমগ্র নগরীর সম্মুখে আমি দুর্জয় সাহসের প্রতিমূর্তি,
শুধু তোমার সান্নিধ্যের কল্পনায়
আমার সমস্ত অহংকার, সমস্ত সাহস
নিঃশব্দে আত্মসমর্পণ করতে ব্যতিব্যস্ত।