মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

নাইমা খাতুনের কবিতা পরিচয়

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

পরিচয়
নাইমা খাতুন

এই শিশিরভেজা ভোর, সূর্যঝলমলে আলোয়
আমি দেখেছি কত পাখি, কত ফুল।
দেখেছি ঝড়ে পড়া পাতা, সবুজ কুঁড়ি।
এর সবই আমার চেনা, সবই পরিচিত।
মাধবীলতার ঝোপ দূর থেকে দেখে বলে,
এত দিন পরে এ পথে এলে!
ড্রেনের পাশে অবহেলায় জন্মানো আমরুলি,
শৌখিন বাগানির কাছে অক্সালিস।
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,
এক ঝুড়ি কষ্ট নাকি অভিমানে বাকরুদ্ধ।

লাল কাঠগোলাপের ডালটাও আজ বিদ্রোহ করে,
আকাশে ডাল মেলেছে, রক্তে লাল অবরুদ্ধ সৌন্দর্য।
মনিবের কড়া শাসন উপেক্ষা করে,
জীর্ণ দেয়াল টপকে আকাশের দিকে তার ঊর্ধ্বগমন।
আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনি শোনা যায়,
আমি মুক্ত, চিৎকার করে বলে,
নেবে আমায় তোমার সাথে?
এই প্রথম একটি লাল কাঠগোলাপ আমি কানে গুঁজে
অনন্ত সুখের স্পর্শ পেলাম।

রাস্তার বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা দেবদারু
স্বর্গীয় সুখের সন্ধান পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।
পাকুড়, মহুয়া, হিজল, সোনালু, জারুল গল্পে এমন মেতে উঠেছে,
ব্রহ্মপুত্রও কলকলিয়ে বলছে, তার গভীরে লালিত ভালোবাসার কথা।
অথচ, তারা কখনো একে অপরকে, এতটা হৃদয় নিংড়ে প্রেম নিবেদন করেনি।
রেইনট্রি কড়ইয়ের সাথে পঙ্খীরাজের অনন্ত প্রেম,
শতাব্দী থেকে শতাব্দীর।

ধূমায়িত চায়ের কাপে আড্ডা, কাঠের বেঞ্চি
ব্রহ্মপুত্রের বুকে যৌবনের ঢেউ,
শিল্পীর ক্যানভাসে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
সবই আমার চেনা।

পাখির গান, শিমুল তুলো, শ্বেতকাঞ্চন ফুলের শুভ্রতা
যন্ত্রের কোলাহল, রাস্তার ধুলো, ইটের দেয়াল
সবই আমার প্রিয় স্বজন, আমায় চেনে।
আমার চিহ্ন বুকের গভীরে পুষে রাখে, অদৃশ্য পরিচয়ে।

শুভ্র/