বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

মোছা. জেরিন ফেরদৌস-এর কবিতা বাবার হাইড্রেঞ্জিয়া

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

বাবার হাইড্রেঞ্জিয়া
মোছা. জেরিন ফেরদৌস

বেগুনি, নীল, গোলাপি রঙে
থোকায় থোকায় আজিসাই ফুল
আমি ভেবেছি হবে হয়তো মে ফুল
কিংবা বাংলাদেশি থোকা গাঁদা।

মেগুরো নদীর পাড়ে সাকুরার মেলা
দিব্যি কেটেছে বেলা।
একটি ক্রিসানথেমামের বাগান
তিশান হয়ে চোখের মণিতে নজর কাড়লো।

গোরাইকোর পাড়ে যে হাওয়া শরীর
হালকা করলো হাৎসুহিনোদে।
সাদা তুলোর মেঘ,
নানোহানা ফুলের হলুদ সরিষা
মনে হয় শৈলপাড়া।

শিশুদের কাঁধে রেন্ডোসেল ব্যাগ
ইউগুরে কিংবা সুকিমিতে
আমি চোখ বুঁজে মাকে দেখি।

হানামিতে যখন বেন্টো খেতে হয়
কিংবা ওকেনোমিয়াকি,
মনে পড়ে মা গালে তুলে দিতেন
আমনের নরম ভাত রুই ঝোলের ব্যঞ্জন।
দোরায়াকি, টনকাৎসুতে খেতে নিলে
মনে পড়ে কোমলপ্রাণ হাতে
বড় আপা বানাতেন ফুলকো
তেলের পিঠা।

হোক্কাইডোতে যখন হর্টিকালচারের মাটিতে
স্পর্শ করি,
মনে পড়ে মা কত রবি মৌসুমে বুনেছেন বীজ
গড়েছেন তিনটে বাগান বাড়ি।
ছিলনা শুধু পুকুর পাড়-ই।

মাঝে মাঝে ওশিদোরি, কিজি দেখি
রুবিতাকি, হিবারি, তসুবামে
মনে হয় শিমা-এনাগা পাঠাই।
বেনামি চিঠির খামে
মা-বাবার নামে।
মনে হয় চমকে দিই বাবাকে।

ওসাকায় যখন রোদ চকচক করে
হৃদয়খানি বলে ওঠে ধড়ফড় শব্দে
‘হো-হোকেক্যা’
মনে হয় মাকে কিনে দিই সমস্ত টোকিও শহরটা
যদি তা পারতাম,
তবে বাবাই হতেন সে শহরের নিহন।
তখন কারোশিতেও শান্তি
পৃথিবীকে বলে দিতাম
আমি বাবার হাইড্রেঞ্জিয়া।