শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

ভারতে বড় বিক্ষোভের আগে হাজারো পুলিশ মোতায়েন, পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভের আগে দেশটির রাজধানী দিল্লি ও এর আশপাশে হাজারো পুলিশ মোতায়েন এবং পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

যুব নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা এ বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিরোধীদের আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়। দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এ আন্দোলন জোরদার হয়।

গত মাসে একটি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তোলার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নির্বাচন কমিশন ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের ভাষ্য, তালিকা থেকে একই ব্যক্তির একাধিক নাম ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এ কার্যক্রমের ফলে ভোটাধিকার থেকে অনেক মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সুবিধা বয়ে আনবে।

নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, রাজধানীজুড়ে হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে হলুদ ধাতব ব্যারিকেডের একাধিক স্তর বসানো হয়েছে।

এ সপ্তাহান্তে ওই স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

সিজেপির ডাকা বিক্ষোভকে গত জুলাইয়ে দলটির গণসংগঠনের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই আন্দোলনের পর একটি পরীক্ষায় কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

এবারের বিক্ষোভে নির্বাচন কমিশনপ্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।

এ অভিযোগ ৭৬ বছর বয়সী মোদির তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

কর্তৃপক্ষ দিল্লির কয়েক ডজন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং নয়াদিল্লিগামী বেশ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করেছে।

তবে শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কিছু ট্রেন চলাচল করতেই হবে এবং সব মেট্রো স্টেশন একযোগে বন্ধ রাখা যাবে না।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপিপ্রধান অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ করতে দেওয়ার পরিবর্তে স্বৈরশাসক পুরো জাতীয় রাজধানী বন্ধ করে দিতে এবং লাখ লাখ নাগরিককে ভোগান্তিতে ফেলতে বেশি আগ্রহী।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোদির এই বন্ধের কারণে কত মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা একবার কল্পনা করুন।’

গত মে মাসে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সিজেপি অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভের আগে কর্তৃপক্ষ তাদের সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

দলটি জানিয়েছে, ট্রেনে করে দিল্লিগামী বিক্ষোভকারীদেরসহ সারা দেশে ‘অন্তত ১০ হাজার মানুষকে’ আটক করা হয়েছে।

দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে আটক কয়েকজনকে হোটেলে নিয়ে রাখা হয়েছে।
তবে ব্যাপক ধরপাকড়ের বিষয়ে দলটির সামগ্রিক অভিযোগের জবাব দেয়নি পুলিশ।

বর্তমান বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা নেহা বোরার ভাষ্য, ‘আপনারা মানুষকে আটক করতে পারেন, কিন্তু আন্দোলনকে আটক করতে পারবেন না।’

২০২৫ সালে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাসের ফলে খসড়া তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে।

বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন এবং মৃত ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীরা’ যাতে ভোট দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এ উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অসমভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত মুসলিম অভিবাসী জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।