বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

তুরস্কের এনজিওগুলোর জন্য কপ৩১ হতে পারে মতপ্রকাশের বিরল সুযোগ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

আগামী মাসে তুরস্কে কপ৩১ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলনকে নিজেদের কথা তুলে ধরার বিরল সুযোগ হিসেবে দেখছে তুরস্কের বেসরকারি সংস্থাগুলো। দেশটিতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। যে কোনো সময় গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আনতালিয়ায় মূল সম্মেলনের পাশাপাশি ৯ নভেম্বর থেকে পিপলস ক্লাইমেট সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এর কর্মসূচিতে রয়েছে আলোচনা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বড় ধরণের সমাবেশ।

ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কপ৩১ আয়োজন তুরস্কের জন্য বড় ধরণের কূটনৈতিক সাফল্য হলেও এনজিও ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো জানায়, প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মতো কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষের আগ্রহ খুবই কম। অথচ এসব কর্মসূচি প্রতিবছরের জলবায়ু সম্মেলনেরই অংশ।

গত মাসে পুলিশ এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ওপর অভিযান চালিয়ে ১১৭ জনকে আটক করে।

এর আগে জুলাইয়ে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুলিশ সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে ৪ হাজার ৪১২ জনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের নেতা এবং এক ডজনের বেশি পরিবেশকর্মী ছিলেন।

কপ৩১-এর আগে একই ধরণের অভিযান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও ওই ঘটনা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে এবং বিষয়টি নজর এড়ায়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কে ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (সিএএন) জ্যেষ্ঠ জলবায়ু নীতি সমন্বয়ক ওজলেম কাতিসোজ।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি না যে সরকার কপকে ন্যাটো সম্মেলনের মতো দেখবে। তবে তখন যা ঘটেছিল, তা দেখিয়েছে সরকার চাইলে কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে নাগরিক পরিসর সীমিত করতে পারে।’
ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ৩০-এ হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছিল। এর বিপরীতে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত আগের সম্মেলনগুলোতে এনজিওগুলো জাতিসংঘ পরিচালিত ভেন্যুর বাইরে বিক্ষোভকে অনিরাপদ বলে মনে করেছিল।
শতাধিক সংগঠন ও ব্যক্তির তৃণমূল উদ্যোগ পিপলস ক্লাইমেট সামিটের সিগদেম ওজবাস বলেন, কপ৩১ মূলত ‘নাগরিক সমাজের সমাবেশ।’ এটি ন্যাটো সম্মেলনের মতো নয়।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তুরস্কের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী পরিবেশে কেউই পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করতে পারে না। যে কোনো সময় আটক করা হতে পারে এবং অনেক সময় আটকের প্রকৃত কারণও গোপন রাখা হয়।’

কার্নিভালের আবহে সমাবেশ-
পিপলস ক্লাইমেট সামিটের ওজবাস বলেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি মানুষ পিপলস ক্লাইমেট সামিটে যোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তাদের মধ্যে ১০০টি দেশের ৩০০টির বেশি সংগঠন রয়েছে। প্রথম সপ্তাহে তারা ‘আমাদের দাবিগুলো দৃশ্যমান করতে’ কাজ করবে।

দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ফোরাম, বিষয়ভিত্তিক বৈঠক এবং সন্ধ্যায় পর্যবেক্ষণ অধিবেশন। এসবের মাধ্যমে এমন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে, যেগুলো ‘গ্রিনওয়াশিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়াল করে’ অথবা যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।

১৪ নভেম্বরের বড় সমাবেশের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক সংগঠনগুলো ‘পুতুল তৈরির কর্মশালা’ আয়োজন করবে। ওই সমাবেশে শ্রমিক ইউনিয়ন, অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষ যোগ দেবে। এতে ‘কার্নিভালের মতো পরিবেশ’ তৈরি হবে।

ওজবাস বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের কাছে বার্তা পাঠানোই লক্ষ্য—আমরা লবিস্টদের প্রভাব, কর্তৃত্ববাদ বা ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদের চাপের মধ্যে বন্ধ দরজার আড়ালে নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেব না।’

খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী কাজদাগি নেচার প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সুহেইলা দোগান বলেন, তারা তুরস্ক সরকারের কাছে ‘আরও অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নীতি’ দাবি করবেন।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার অধিকার আমাদের রয়েছে। আইন মেনে সেই অধিকার প্রয়োগে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

তুরস্ককে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা-
এদিকে, ১৫টি শীর্ষ নাগরিক সমাজ সংগঠনের জোট ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক তুর্কিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

এসইএফআইএ থিংক ট্যাঙ্কের প্রধান বেঙ্গিসু ওজেং বলেন, ‘জাতীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নীতির এজেন্ডায় প্রভাব ফেলতে’ তারা নিজেদের ‘বিস্তৃত দক্ষতা ও জ্ঞান’ কাজে লাগাতে চান।

তবে সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের কোনো প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেনি। ফলে কিছু বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ ছাড়া ‘এ ধরণের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বেশ সীমিতই রয়ে গেছে’ বলে তিনি জানান।

সিএএনের কাতিসোজ বলেন, নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারি দপ্তর ও কপ৩১ প্রেসিডেন্সির অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পথ তৈরির জন্য চাপ দিচ্ছেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ পেতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক নীতিনির্ধারণ কাঠামোর অংশ হওয়া আমাদের জন্য জরুরি।’

বিদেশি প্রতিনিধিদের তুরস্কের আয়োজকদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, ‘তুরস্কের প্রেসিডেন্সি যা বলছে, তা দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা’ উচিত।

তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে বক্তব্য দিলে প্রতিনিধিদের মনে রাখা উচিত, দেশটিতে এখনও নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘কপ প্রেসিডেন্সির আন্তর্জাতিক বক্তব্যের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য থাকা উচিত।’