এবারের ‘ইত্যাদি’তে থাকছে নকশিকাঁথা-ঘোড়ার হাটের গল্প

প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরে জামালপুরে ধারণ করা হয়েছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব। মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে অনুষ্ঠানটির এবারের পর্বের ধারণ করা হয়।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে পর্বটি।
নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে স্টুডিওর বাইরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ইত্যাদি’র ধারণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রত্নসম্পদ, পর্যটন ও মানুষের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরাই এসব আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এবার জামালপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের সবুজ বনানী ও লেকঘেরা এলাকায় নির্মাণ করা হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ। সাধারণত রাতের আলোকিত মঞ্চে অনুষ্ঠানটির ধারণ করা হলেও লাউচাপড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে এবার দিনের আলোতেই ধারণ করা হয়।
ধারণকে ঘিরে জামালপুরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে নানা বয়সী দর্শক এতে অংশ নেন। বৃষ্টি ও গরম উপেক্ষা করে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় অনেকে গাছ ও পাহাড়ের চূড়ায় বসেও অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
এবারের পর্বে থাকছে দুটি গান। একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমেই টেলিভিশনে তাঁদের প্রথম উপস্থিতি হয়েছিল। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।
এছাড়া জামালপুরকে পরিচিত করিয়ে দিতে থাকছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। এতে দ্বৈতকণ্ঠে গান গেয়েছেন জামালপুরেরই মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের নৃত্য পরিচালনায় এতে স্থানীয় বাঙালি ও গারো নৃত্য পরিবেশন করা হয়েছে।
নিয়মিত দর্শকপর্বে জামালপুরকে কেন্দ্র করে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে তাঁরা জামালপুরের চারজন স্মরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন।
এবারের পর্বে জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত নকশিকাঁথা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি’ বা ‘পিঠালি’ নিয়ে প্রতিবেদন থাকছে। পাশাপাশি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ এবং দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’ নিয়েও থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন।
নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার ও বাল্যবিবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবন নিয়েও থাকছে মানবিক প্রতিবেদন। জামালপুরে জন্ম নেওয়া চারজন গুণী ব্যক্তিত্বের অবদানও তুলে ধরা হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজেদের প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির জীবনসংগ্রাম নিয়েও থাকছে একটি অনুপ্রেরণামূলক প্রতিবেদন।
বিদেশি প্রতিবেদনে এবার উঠে আসবে চীনের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সুঝৌ শহরের বিভিন্ন দিক।
এছাড়া অনুষ্ঠানে থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির কথোপকথন, নিয়মিত ‘চিঠিপত্র’ পর্ব এবং সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কয়েকটি নাট্যাংশ। এসব নাট্যাংশে অভিনয় করেছেন দেশের বিভিন্ন অভিনয়শিল্পী।
অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় রয়েছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।