রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা শিথিল

আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবিক ও বিজ্ঞান উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবেদনের ন্যূনতম জিপিএ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্য বিভাগের যোগ্যতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেলেনি।
গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রথম সভায় এসব প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতকাল রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন।
এ বিষয়ে রাবির অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ক্ষতি হোক, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চায় না। চলতি বছরের এইচএসসিতে অনেকের ফলই তেমন আশানুরূপ না হওয়ায় মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের আবেদনের শর্ত শিথিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
কমিটির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ পৃথকভাবে অন্তত জিপিএ ৩.০০ পেতে হবে। সেই সঙ্গে দুই পরীক্ষা মিলে মোট জিপিএ থাকতে হবে কমপক্ষে ৬.৫০।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মানবিক বিভাগে আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষা মিলে মোট জিপিএ ৭.০০ চাওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আবেদনের জিপিএ শর্ত ০.৫০ কমানো হচ্ছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ পৃথকভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ এবং মোট জিপিএ অন্তত ৭.০০ থাকতে হবে। যেখানে গত শিক্ষাবর্ষে মোট জিপিএ ৭.৫০ অর্জন করা আবশ্যক ছিল।
বাণিজ্য বিভাগের অর্থাৎ ‘বি’ ইউনিটের আবেদনের জিপিএ শর্ত নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ভর্তি কমিটি।
তবে অধ্যাপক বেলাল হোসেন জানান, এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও যোগ্যতা শিথিলের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা উপকমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এবার ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমেই রাবির ভর্তি যুদ্ধ শুরু হবে। ঘোষিত প্রাথমিক সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিট (বাণিজ্য), ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিট (বিজ্ঞান) ও ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এর ভর্তি আবেদন গ্রহণ চলবে ১২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।