মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

​জবি বাসে আসন নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রক্টরের মধ্যস্থতায় মীমাংসা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসন নিয়ে বিরোধের জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং স্বাধীন ২৪ নিউজের সাংবাদিক। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন তিনি। তবে অভিযোগের পর অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান।

​অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন বাংলা বিভাগের শিহাব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের জুবায়ের।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মিরপুর ১ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরণ ২ বাসে উঠে খালি আসনে বসেন সুজন। পরে বাংলা কলেজ মোড় থেকে বাসে ওঠেন শিহাব ও জুবায়ের। এ সময় তাঁরা সুজনকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে জানান, আগে বাসে উঠলে আগে আসনে বসার সুযোগ রয়েছে। বাসে থাকা অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীও তাঁর আসনে বসে থাকার পক্ষে মত দেন।

​পরে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের কাছে পৌঁছালে আসন ছাড়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সুজনের অভিযোগ, একপর্যায়ে শিহাব ও জুবায়ের তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত ও রক্তাক্ত হন। পরে বিচার চেয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

​ভুক্তভোগী সুজন জানান, নিয়মিত উত্তরণ ২ বাসে যাতায়াত করেন তিনি। সেদিন বাসে উঠে খালি আসনে বসার পর তাঁকে আসন ছেড়ে দিতে বলা হয়। পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশনার কথা জানিয়ে আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ক্যাম্পাসের তৃতীয় ফটকের কাছে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে গেলে উত্তরণ ২ বাসের সভাপতি হৃদয়ের সঙ্গেও অভিযুক্তদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হৃদয়ের ভাষ্য, ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে গেলে শিহাব ও জুবায়ের তাঁর ওপরও চড়াও হন। এ সময় তাঁরা দম্ভভরে বলেন যে সুজনকে তাঁরা মেরেছেন, পারলে হৃদয় যেন কিছু করেন। এমনকি তাঁকে মারতেও তেড়ে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন হৃদয়।

​অভিযোগের বিষয়ে শিহাব জানান, তিনি সুজনকে আসন থেকে উঠতে বলেছিলেন, কিন্তু সে ওঠেনি। পরে বাস থামার পর তাঁরা তাকে আটকান। সে নাশতা করতে যাবে বললে তিনি রেগে গিয়ে তার গায়ে হাত তোলেন। অন্যদিকে জুবায়ের বলেন, বাস থামার পর তাঁরা সুজনকে আটকে কথা বলতে চান। সুজন নাশতা করতে যাওয়ার কথা বললে শিহাব তাঁর দিকে তেড়ে গিয়ে মারধর করেন।

​অভিযোগের নিষ্পত্তি সমঝোতায়, উঠছে বিচার নিয়ে প্রশ্ন

মারধরের অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মধ্যস্থতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে সমঝোতাই যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

​শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসে মারধর, হেনস্তা কিংবা র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কেবল আপসের মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক জানান, এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তিনি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। প্রক্টর যে ব্যবস্থা নেবেন, তাঁরা তার পক্ষেই থাকবেন। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, আপাতত তাঁরা দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করে দিয়েছেন। আবারও অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আসন নিয়ে এ ধরনের বিরোধ এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানতে চাইলে প্রক্টর জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই একটি নোটিশ দেওয়া হবে।