বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন খাতে কর্মরত: উপাচার্য

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী দেশের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও বড় অবদান রাখছেন।

​আজ বুধবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস শীর্ষক সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল পর্যায়ের ৩৭০টি কলেজের অধ্যক্ষদের মধ্যে এই সিম বিতরণ করা হয়।

​উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার চলছে। পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। পাশাপাশি চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেও আয় করতে পারেন সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​সিলেবাস সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা হয়েছে। প্রায় পঞ্চাশটি বিষয়ে পাঁচ হাজারের মতো কোর্স রয়েছে। এর মধ্যে চারশটি কোর্সের সংস্কার শেষ হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাস কোর্সের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের আইসিটিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজে আইসিটি ল্যাব নেই, পর্যায়ক্রমে সেসব কলেজে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

​অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জ্ঞান ও পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় গ্রামীণফোন সবসময় পাশে থাকবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভালো করছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এআই অলিম্পিয়াডে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণদের বৈশ্বিক মানের শিক্ষায় গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষাপরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সমাধান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে গ্রামীণফোন প্রস্তুত রয়েছে।

​মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষাসহায়ক নানা সুবিধা পাবে।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান এবং সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. জুলহাস উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন ও আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকরাম হোসেন।