তা’মীরুল মিল্লাতে আলিমে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ, নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হতে পারেননি অনেকে!

তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার টঙ্গী ক্যাম্পাসে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। অনলাইনে আবেদন করে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়া, নিশ্চায়ন ফি জমা দেওয়া, এমনকি চূড়ান্ত ভর্তি ও হোস্টেলে আসন নিশ্চিত করার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির আশায় এ প্রতিষ্ঠানে আসেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসেন। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও শেষ মুহূর্তে ভর্তি বাতিলের ঘটনায় তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
মাদরাসার প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিজ্ঞান বিভাগে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ এবং সাধারণ বিভাগে ৩.৫০ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে আবেদনের সময় ৫ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর, ফল প্রকাশের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর এবং মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্নের সময় ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, অনলাইনে আবেদন করে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন তাঁরা। কেউ কেউ নিশ্চায়ন ও ভর্তি ফি জমা দিয়ে রসিদও পেয়েছেন। এমনকি হোস্টেলে আসন নিশ্চিত করে অর্থ জমা দেওয়ার পরও তাঁদের জানানো হয়েছে, নির্ধারিত জিপিএ না থাকায় ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত ন্যূনতম জিপিএর শর্ত পূরণ করা শিক্ষার্থীদেরই ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ভর্তি বাতিল করা হয়েছে, তাঁরা ওই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
তবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, নির্ধারিত জিপিএর শর্ত পূরণ না করলে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নির্বাচিত করা হলো কেন? আবেদন ও প্রাথমিক নির্বাচনের সময় যোগ্যতা যাচাই করা হলে পরবর্তী সময়ে ভর্তি বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে মনে করছেন তাঁরা।
আশিক আহমেদ নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “আমি আমার ছোট বোনকে আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি করিয়েছি। দুপুরে সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। নিশ্চায়ন ফি ও ভর্তি ফি জমা দিয়ে রসিদও পেয়েছি। কিন্তু রাতে গার্লস সেকশন থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তাঁরা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি।”
আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলের নাম তালিকায় আসার পর নিশ্চায়ন করি। ভাইভার মাধ্যমে চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন করে টাকা জমা দিয়েছি। এরপর হোস্টেলে আসন নিশ্চিত করেও টাকা দিয়ে এসেছি। বাড়িতে ফেরার পর রাতে মাদরাসা থেকে জানানো হয়, তার জিপিএ কম হওয়ায় ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।”
এভাবে আরও কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তির অভিযোগ জানিয়েছেন।
অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, নিশ্চায়ন সম্পন্ন করার পরও যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি, তাঁদের কেউ কেউ ভর্তি বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। এতে বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (আইসিটি) মাহফুজ মুর্শেদ বলেন, আলিম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি মাদরাসার ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। কোনো মাদরাসা ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ নির্ধারণ করলে এর চেয়ে কম জিপিএধারী শিক্ষার্থীদের সেখানে নির্বাচিত হওয়ার কথা নয়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তা’মীরুল মিল্লাত কর্তৃপক্ষ যদি আগে থেকেই ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করে রাখে, তাহলে এর চেয়ে কম জিপিএধারী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন দিলেও তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. হেফজুর রহমান ও মাদরাসার ছাত্র সংসদের ভিপি মঈনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক নির্বাচন, নিশ্চায়ন ও চূড়ান্ত ভর্তির বিভিন্ন ধাপে যোগ্যতা যাচাই কীভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো যাচাই করে ভর্তি বাতিলের কারণ স্পষ্ট করা এবং দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগসহ সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।